Published : 30 Apr 2026, 08:17 PM
আর্সেনালের বিপক্ষে ড্র ম্যাচে টাচলাইনে ‘অনুপযুক্ত’ আচরণের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ দিয়েগো সিমেওনে। গুরুত্বপূর্ণ ভিএআর পর্যালোচনার সময় তিনি রেফারির ওপর প্রভাব খাটিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন সাবেক তিন ইংলিশ ফুটবলার।
মেত্রোপলিতানোয় বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমি-ফাইনালের প্রথম লেগ ১-১ সমতায় শেষ হয়। ম্যাচের দুটি গোলই হয় পেনাল্টি থেকে।
পরে আর্সেনালকে আরও একটি পেনাল্টি দেন ডাচ রেফারি ডেনি মাকেলি। ৭৮তম মিনিটে বক্সে বদলি নামা এবেরেচি এজেকে চ্যালেঞ্জ জানান আতলেতিকো ডিফেন্ডার দাভিদ হান্সকো। সঙ্গে সঙ্গে পড়ে যান এজে, বাঁশি বাজাতেও দেরি করেননি রেফারি।
ফুটবলাররা তো বটেই, আতলেতিকো কোচ সিমেওনেও বারবার রেফারিকে ভিএআরের (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) সাহায্য নেওয়ার আবেদন করেন এবং সেটাই হয়। ভিএআরের ডাকে মনিটরে গিয়ে লম্বা সময় ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন রেফারি।
রেফারি যখন মনিটরে রিপ্লে দেখছিলেন, তখন কাছাকাছিই ছিলেন সিমেওনে। তিনি দুই হাত ছড়িয়ে বোঝাতে থাকেন যে, পেনাল্টি ছিল না।
ম্যাচের পর টিএনটি স্পোর্টসে আলাপে সাবেক লিভারপুল অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড বলেন, রেফারির দৃষ্টিসীমায় থেকে তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছেন সিমেওনে।
“সিমেওনে পাগল, খেলোয়াড়দের মাথার পেছনে চাপড় মারেন। আমার মনে হয়, পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সিমিওনের। তার আচরণ এমন ছিল যে; রেফারি যখন আসছিলেন, তখন তার দৃষ্টিসীমার মধ্যেই ছিলেন তিনি (সিমেওনে)।”
আর্সেনাল গ্রেট মার্টিন কিওন মনে করেন, আতলতিকোর টেকনিক্যাল স্টাফদের তৈরি পরিবেশের চাপ সামলাতে পারেননি রেফারি। তার মতে, রেফারি প্রথমে পেনাল্টি দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন এবং ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার কোনো প্রয়োজনীয়তাই ছিল না।
“আমি একেবারেই মনে করি না যে, এটা (প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত) রেফারির কোনো সুস্পষ্ট ভুল ছিল। রেফারিকে খেলাটি পরিচালনা করতে সক্ষম হতে হবে। ভিএআর খুব বেশি জড়িয়ে পড়েছে। ভিএআর নিয়ে আমরা এটা চাইনি। আমার মতে, এটা নিয়মের অংশ নয়। কিন্তু সিমেওনে, সাইডলাইনে তার কার্যকলাপ, তার তৈরি করা নাটকীয়তা এবং এর চারপাশের দৃশ্য দেখে আমার মনে হয়েছে, রেফারি শেষ পর্যন্ত চাপের মুখে ভেঙে পড়েন, স্ক্রিন রিভিউয়ের সাহায্য নেন এবং নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকেননি। আমার মতে, তাকে স্ক্রিন রিভিউয়ের সাহায্য নিতে বাধ্য করা উচিতই ছিল না।”
পেনাল্টির সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করার আগে মনিটরে ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে ১৩টি রিপ্লে পর্যালোচনা করেন রেফারি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মনিটরের চারপাশের দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান স্টিভ ম্যাকমানাম্যান। লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি ও রেয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই উইঙ্গার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ভিএআর নিয়ে।
“আমরা আবার ভিএআর নিয়ে কথা বলছি। মানে আমি এটাকে একদমই ঘৃণা করি, ঘৃণা, ঘৃণা, ঘৃণা করি। আমার মনে হয়েছে, রেফারি যখন মনিটরে দেখার জন্য এগিয়ে আসছিলেন, তখন দিয়েগো সিমেওনে এবং তার সহকারীদের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক।”