নরওয়ের বিপক্ষে সেই পেনাল্টি মিস এখনও পোড়ায় গিমারাইসকে
স্পট কিক নেওয়ার দায়িত্ব কাকে দেওয়া হয়েছিল, ভিনিসিউস জুনিয়র কেন শটটা নেননি- সব বিষয়ই খোলাসা করলেন এই মিডফিল্ডার।
সবশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারতো, যদি নরওয়ের বিপক্ষে শুরুতেই দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারতেন ব্রুনো গিমারাইস। তার সেই পেনাল্টি মিস করাকে বিশ্বকাপ থেকে সেলেসাওদের আগেভাগে বিদায়ের বড় কারণ হিসেবে দেখে অনেকেই। এই মিডফিল্ডারের মনেও যা এক বড় ক্ষত তৈরি করেছে।
উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ে যাত্রা শুরুর পর, ধীরে ধীরে নিজেদের ফিরে পাচ্ছিল ব্রাজিল দল। শেষ ষোলোয় নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বাদশ মিনিটেই মাতেউস কুইয়া ডি-বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পেয়ে যায় তারা, শট নিতে এগিয়ে যান গিমারাইস। কিন্তু তার নিচু স্পট কিক ঝাঁপিয়ে রুখে দেন আরিয়ান হশল নিলাদ।
পরে আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠে নরওয়ে। শেষদিকে আরেকটি পেনাল্টি পেয়ে নেইমারের গোলটি কেবল ব্যবধানই কমায়। ১৯৯০ সালের পর বিশ্বকাপ থেকে এত আগে আর কখনও বিদায় নিতে হয়নি পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
হতাশার ওই অধ্যায়ের পর আড়াই মাস পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই দাগ এখনও শুকায়নি গিমারাইসের।
দলের অভিজ্ঞ অনেককে ছেঁটে ফেলে তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে ‘নতুন যুগের’ সূচনার কাজ শুরু করেছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার পরিকল্পনায় ভালোমতোই আছেন গিমারাইস। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে এখন দলের সঙ্গে দেশটিতে আছেন তিনি।
সেখানেই বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তর আর্সেনালের এই মিডফিল্ডার বললেন, সেই স্মৃতি তাকে অনেকদিন কষ্ট দিবে।
“খুব কষ্টের এক অনুভূতি। পেনাল্টি মিস ফুটবলের অংশ, কিন্তু আমরা কখনোই এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। অবশ্যই, এই ক্ষতের দাগ রয়ে গেছে। খুব সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা, এখনও পোড়ায়, এখনও আমাকে অনেক কষ্ট দেয়।
“তবে এটা ফুটবলের একটা অংশ। আশা করি, ভুল থেকে আমি শিখতে পারব, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
সেদিন ভিএআর মনিটরে দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজানোর পর, প্রথমে ভিনিসিউস জুনিয়র শট নেবেন মনে হলেও, শেষ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার জোরে জোরে শ্বাস ছেড়ে যে শট নেন গিমারাইস, তা আটকাতে খুব সমস্যা হয়নি নরওয়ে গোলরক্ষকের।
ছন্দে থাকা ভিনিসিউস কেন পেনাল্টি নেননি, স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে পড়েন আনচেলত্তিও। সমালোচনা সইতে হয় ভিনিসিউসকেও। ওই বিষয়েও কথা বললেন গিমারাইস।
“ম্যাচ-পূর্ব আলোচনায়, কোচ সিদ্ধান্ত নেন কে পেনাল্টি নেবে। আমাকে বেছে নেওয়া হয়। পেনাল্টি নেওয়ার আগমুহূর্তে অন্য খেলোয়াড়রাও বল নিতে চেয়েছিল, চেষ্টা করতে এবং গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে চেয়েছিল। ভিনির পেনাল্টি নেওয়ার কথা ছিল না, আমারই দায়িত্ব ছিল।”
