উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 06 Jun 2026, 03:47 PM
গ্রুপ পর্ব ও সেমি-ফাইনাল মিলিয়ে তিন ম্যাচের শুরুর একাদশে অনেক বদল করেছেন পিটার জেমস বাটলার। দুই উইংয়ে ঋতুপর্ণা চাকমা ও শামসুন্নাহার জুনিয়রকে রেখে মূল স্ট্রাইকারে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীকে রেখে ছক সাজিয়েছেন। কাটাছেঁড়া করেছেন রক্ষণ ও মাঝমাঠেও। ভারত ম্যাচের আগে সেরা একাদশ খুঁজে পেয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নে অবশ্য দলের স্বার্থেই কৌশলে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন বাংলাদেশ কোচ।
গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে নামবে দল। আগের দিন ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাবের অনুশীলনে সেরা একাদশ মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছেন বাটলার।
সবশেষ নেপালের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে তিন পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান বাটলার। ভারত ম্যাচে খেলা মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও সুরমা জান্নাতের বদলে খেলান আফঈদা খন্দকার, উমহেলা মারমা ও সুরভি আকন্দ প্রীতি। আগের দিন মা হারানো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজমিকেও সেদিন রাখেন বেঞ্চে। দলীয় সুত্রের খবর, ফাইনালে দুটি সাফ জয়ী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলিকে ফাইনালে খেলাতে পারেন কোচ।
চোট কাটিয়ে দলের সাথে অনুশীলন করলেও, মনিকা চাকমার ভারতের বিপক্ষে খেলা অনিশ্চিত। কারা খেলবেন, সে বিষয়টিও বাংলাদেশ কোচ রাখলেন আড়ালে।
“আমি মনে করি, সব প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছিল সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য এবং সেখানে একটি ভিন্ন দল নামানোর জন্য। আপনারা দেখেছেন, আমি এমন কিছু খেলোয়াড়কে খেলিয়েছি যারা মাত্র ৩০ মিনিট সময় পেয়েছে, তবে তার পেছনে একটা কারণ ছিল। আমি দ্রুত খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে ভয় পাই না। তবে আমার মনে হয় বেঞ্চের দিকে নজর দেওয়া জরুরি; ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, আমার এমন কিছু খেলোয়াড় প্রয়োজন, যারা মাঠে নেমে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।”
“শামসুন্নাহার ও তহুরা (খাতুন) তা করতে পারে। উমহেলা মারমাও মাঝে মাঝে তা করে, তবে সে এখনও তরুণ। আমাদের দলে অনেক কম বয়সী বা তরুণ খেলোয়াড় আছে। সুরভি আক্তার আরফিনকে নিয়ে কেউ তেমন কথা বলছে না, অথচ সে অসাধারণ খেলছে এবং তার বয়স মাত্র ১৮ বছর। তাই আমি যা করার চেষ্টা করছি, তার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা কৌশল রয়েছে।”
সাফের শিরোপা পুনরুদ্ধারে মরিয়া ভারতের বিপক্ষে পা মাটিতে রেখে মেয়েরা লড়বে, আশা বাটলারের। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ এই কোচের চাওয়া ফাইনালে সেরাটা মেলে ধরুক তার দল।
“আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি, কিন্তু এখনই নিজেদের খুব বড় কিছু ভাবছি না। কারণ এই ফুটবল খেলাটা আপনাকে খুব দ্রুতই আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে ফেলতে পারে। আমাদের কেবল বিনয়ী থাকতে হবে, মাটিতে পা রাখতে হবে এবং একে অপরের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে। আমি খেলোয়াড়দের কাছে সবসময় এটাই চাই-নিজের সেরাটা দাও।”