০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাপান দলে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে চান সুজুকি

চোট কাটিয়ে সেরি আয় নিজেকে প্রমাণ করে জাপানের এই গোলরক্ষক বুঝিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের জন‍্য তিনি প্রস্তুত।

জাপান দলে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে চান সুজুকি
জিওন সুজিকি। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 May 2026, 09:16 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

চোটে জেগেছিল শঙ্কা, বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন তো জিওন সুজিকি? সব দুর্ভাবনা পেছনে ফেলে মাঠে ফিরেছেন তিনি। নড়বড়ে শুরুর পর, ধীরে ধীরে ফিরে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস। এখন দৃপ্ত কণ্ঠ বলছেন, আসন্ন বিশ্বকাপের জন‍্য তিনি তৈরি।

২৩ বছর বয়সী সুজুকিকে ঘিরে ভক্তদের যে প্রত্যাশা, সেই সঙ্গে পারফরম্যান্সের মেলবন্ধন ঘটাতে পারলে আগামী এক দশক জাপানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক থাকতে পারেন তিনিই।

দারুণ শারীরিক গঠনের পাশাপাশি ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতায় আরও ধারাল হয়ে উঠেছেন সুজুকি। কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ‍্য ও ধীরস্থির মানসিকতার মিশেলে পার্মা গোলরক্ষক হয়ে উঠেছেন আস্থার প্রতীক।

স্কোয়াডের ভেতরে ও বাইরে যে আস্থা তিনি অর্জন করেছেন, সেটি সহজে আসেনি। শুরুর কঠিন সময়ের কথা ফিফার সঙ্গে আলাপচারিতায় বলেছেন ২৩ বছর বয়সী সুজুকি।

“জাপানের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক হিসেবে শুরুতে আমি বেশ কিছু ভুল করেছিলাম এবং নিজের অনভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলাম।” 

এশিয়ান কাপ দিয়ে ঘুরে দাঁড়ান সুজুকি। দলের প্রতিটা ম‍্যাচে খেলেন তিনি এবং নিজেকে এক নম্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। একই সঙ্গে অবশ্য তার দুর্বলতাগুলোও সামনে চলে আসে। বিশেষ করে ক্রস সামলানো ও বল ধরা নিয়ে চলে কঠোর সমালোচনা। সেগুলো সুজুকির উন্নতিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে। 

“এখন আমি মনে করি, নিজের মানসিকতা দিয়ে আমি দলে স্থিরতা নিয়ে আসতে পারি।”

উন্নতির স্পষ্ট ছাপ আছে তার পারফরম‍্যান্সে। ক্রস বুঝতে পারা, শট সামলানো কিংবা নিচ থেকে খেলা গড়ে তোলায় ভূমিকা রাখা এবং ধারাবাহিকতা হয়ে উঠেছে তার খেলার ভিত্তি। তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সেরি আর অভিজ্ঞতা। 

২০২৫ সালের নভেম্বরে এসি মিলানের বিপক্ষে খেলার সময় বাঁ হাত ভেঙে যায় সুজুকির। এতে তার বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে শঙ্কা জাগে।

মাঠে ফিরে ধীরে ধীরে নিজেকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। গত মার্চে ইউরোপের দুই দল স্কটল‍্যান্ড ও ইংল‍্যান্ডের বিপক্ষে চমৎকার পারফরম‍্যান্সে দিয়েছেন স্বরূপে ফেরার প্রমাণ। প্রায় একই ধরনের শক্তির নেদারল‍্যান্ডস, তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে খেলবে জাপান। 

এই সব ম‍্যাচে নিজের অনেক প্রাপ্তি দেখছেন সুজুকি। 

“ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের দলের বিপক্ষে ফল পাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর জাল অক্ষত রাখা আমাকে আত্মবিশ্বাস যোগায়।”

প্রীতি ম‍্যাচ দুটিতে এমন সময় এসেছিল, যখন বেশ চাপে ছিল জাপান। তবে পোস্টে দৃঢ়তা দেখান সুজুকি। দুই ম‍্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেভ করেন তিনি। কঠিন সময়ে দলের রক্ষণ জমাট রাখতে সহায়তা করেন সতীর্থদের। এই পারফরম‍্যান্সের ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপের উত্তর আমেরিকা আসরে নিয়ে যেতে চান তিনি।

“জাপানের হয়ে খেলা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আমাদের কাছে যে ফল প্রত‍্যাশিত, তা পূরণে চাপের মুখে পারফর্ম করতে পারা, সেই লক্ষ্যে মাঠে নামতে আমি উন্মুখ হয়ে আছি।”

“সবার ওপরে আমি এমন একজন গোলরক্ষক হতে চাই, যে দলে স্থিরতা নিয়ে আসবে। সহজ কাজগুলো ভালোভাবে করা, ধারাবাহিক হওয়া, গোল হজম না করার সংকল্প নিয়ে খেলা। আমি বিশ্বাস করি, যারা খেলা দেখে, এগুলোই শেষ পর্যন্ত তাদের অনুপ্রাণিত করে।”

ক‍্যারিয়ারের শুরুতে প্রত‍্যাশা ও সমালোচনা, দেশের বাইরে খেলার চ‍্যালেঞ্জ, চোট থেকে ফেরা- প্রতিটি পদক্ষেপে ঋদ্ধ হয়েছেন সুজুকি। এখন তিনি জাপানের রক্ষণের শেষ ভরসা।