১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সতীর্থকে চড় মেরে লাল কার্ড, তবু ১২ বছরের খরা কাটানো জয়

ম্যাচের শুরুর দিকেই চড়-কাণ্ডের পর ১০ জন নিয়ে খেলেও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে ১২ বছরের মধ্যে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে এভারটন।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Nov 2025, 11:56 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:11 PM

ফুটবল মাঠে লাল কার্ড তো হরহামেশাই দেখানো হচ্ছে। তবে ইদ্রিসা গেয়ি যেভাবে লাল কার্ড পেলেন, সেটি নিশ্চিতভাবেই বিরল। দৃশ্যটিই তো অবিশ্বাস্য, তিনি চড় মেরেছেন নিজ দলেরই একজনকে! সতীর্থের গায়ে হাত তুলে ম্যাচের ১৩ মিনিটেই মাঠ ছাড়তে হয় এই মিডফিল্ডারকে। বাকি পুরোটা সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও স্মরণীয় এক জয় আদায় করে নেয় এভারটন।

 ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে সোমবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ১-০ গোলে জয় পায় এভারটন। ইউনাইটেডের মাঠে ১২ বছরের মধ্যে তাদের প্রথম জয় এটি।

২৯তম মিনিটে দুর্দান্ত গোল করেন কিয়েরনান ড্রুজবেরি-হল। সেটিই ভাগ্য গড়ে দেয় ম্যাচের।

ম্যাচের দশম মিনিটেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন এভারটনের ডিফেন্ডার সিমাস কোলম্যান। সেটির রেশ কাটতে না কাটতেই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত সেই ঘটনা। 

গেয়ির সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয় মাইকেল কিনের। তার পাসটি ঠিকঠাক বুঝতে পারেননি কিন। বল ‘ক্লিয়ার’ করা যায়নি। বল পেয়ে যান ইউনাইটেডের ব্রুনো ফের্নান্দেস, ফাঁকায় থেকে তার শট পোস্টের একটু বাইরে দিয়ে চলে যায়। 

এরপরই কিনের দিকে তেড়ে যান গেয়ি। ক্ষিপ্ত হয়ে কথা বলতে থাকেন মুখের ওপর। এক পর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন কিন। তাতে আরও চটে গিয়ে এই ডিফেন্ডারের গালে বাঁহাতে চড় বসিয়ে দেন গেয়ি। গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ড ছুটে গিয়ে আলাদা করেন দুজনকে, সরিয়ে নেন গেয়িকে।

রেফারি টনি হ্যারিংটন ছিলেন কাছেই। তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে দেন। তাতে আবার ক্ষুব্ধ হয়ে কিনের দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন গেয়ি। পিকফোর্ড তখন আবার গিয়ে একরকম জাপ্টে ধরে সরিয়ে নেন সেনেগালের এই মিডফিল্ডারকে।

পরে সময় নিয়ে ভিএআর দেখে রেফারি বহাল রাখেন লাল কার্ড।  

১৭ বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কোনো ফুটবলার নিজ দলেই ঝামেলা পাকিয়ে লাল কার্ড দেখলেন। এর আগে ২০০৮ সালে স্টোক সিটির রিকার্ডো ফুলার লাল কার্ড পেয়েছিলেন ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে সতীর্থ অ্যান্ডি গ্রিফিনকে চড় মেরে।

১০ জনের পরিণত হওয়ার পর লড়াই চালিয়ে যায় এভারটন। ২৯তম মিনিটে বক্সের বেশ বাইরে বল পেয়ে এগিয়ে যান ড্রুকবেরি-হল। ইউনাইটেডের দুজনের মাঝ দিয়ে বল বের করে বক্সের ঠিক মাথা থেকে আচমকা গতিময় শট নেন দূরের পোস্টে। সেই গোল আটকানোর সাধ্য ছিল না গোলকিপারের।

ম্যাচের বাকি সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ইউনাইটেড। দাপট দেখিয়ে বেশ কিছু সুযোগ তারা তৈরি করে। কিন্তু কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি। দারুণ কিছু সেভ করেন এভারটনের গোলকিপার পিকফোর্ড।

ম্যাচের পরও সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় ছিল গেয়ির সেই লাল কার্ড। এভারটনের কোচ ডেভিড ময়েস ম্যাচের পর বললেন, রেফারি ব্যাপারটি অন্যভাবেও সামলাতে পারতেন।

“ফুটবলে এসব হয়েই থাকে। আমার মনে হয়, রেফারি আরেকটু সময় নিতে পারতেন এবং ভাবতে পারতেন। হয়তো সেখানে গিয়ে মিটমাট করে দিতে পারতেন। সে (গেয়ি) পরে এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছে এবং ড্রেসিং রুমে অন্য সবার প্রশংসা করেছে।”

মাঠে নিজ দলের ফুটবলারদের মধ্যে এই লড়াইকেও তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখেন। 

“মাঠে কেউ বল ঠিকঠাক দিতে না পারলে বা সঠিক কাজটি করতে না পারলে নিজেদের মধ্যে লড়াই বা বিরক্ত হওয়ার ব্যাপারটি পছন্দই করি আমি। জয়ী একটি দল গড়ে তুলতে হলে, যে কঠোরতা ও দৃঢ়তা আমাদেরকে ফলাফল এনে দিয়েছে… আমার মনে হয় এমন ফুটবলার আমাদের প্রয়োজন, যারা এভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়।”

ম্যাচটি জিতলে পয়েন্ট তালিকার পাঁচে উঠে আসতে পারত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। উল্টো পেল তারা বিব্রতকর স্বাদ। প্রতিপক্ষের একজন লাল কার্ড দেখার পর ঘরের মাঠে প্রিমিয়ার লিগে কোনো ম্যাচ হারল তারা প্রথমবার।

কোচ হুবেন অ্যামুরি কৃতিত্ব দিলেন প্রতিপক্ষকে।

“আমাদের ১১ জনের তুলনায় ওরা ১০ জন নিয়েও ছিল শ্রেয়তর দল। আমাদের ভেতর সেই তাড়না ছিল না। জয় তাদেরই প্রাপ্য ছিল।”

ম্যাচ হেরে ১০ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন ১০ নম্বরে ইউনাইটেড, সমান পয়েন্ট নিয়ে গোলপার্থক্যে ১১ নম্বরে এভারটন।