উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 28 May 2026, 11:32 AM
এ পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ম্যাচ খেলেছেন মাত্র তিনটি। সময়ের হিসাবে মাঠে উপস্থিতি ছিল মোট ১১৩ মিনিট। ম্যাচগুলোতে খেলেছেন মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে। সেই আনিকাকে কেন্দ্রে রেখে মালদ্বীপ ম্যাচের আক্রমণভাগ সাজিয়েছেন পিটার জেমস বাটলার।
এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ। আনিকা ‘তরুণ এবং সম্ভাবনাময়’ মনে হয়েছে বলেই এই সিদ্ধান্ত তার।
আনিকার নিষ্ঠা, নিবেদন নিয়ে প্রশ্ন নেই। গোয়ায় গত দুই দিনের অনুশীলনে এর প্রমাণ মিলেছে অনেকটাই। ব্যাম্বোলিম অ্যাথলেটিক ক্লাব মাঠে ঘণ্টা দেড়েকের প্রস্তুতির শেষ দিকে যখন নামল ঝুম বৃষ্টি, অনেকেই যখন ড্রেসিংরুমের দিকে ছুটলেন, আনিকা তখন রুপনা চাকমাকে ডেকে নিলেন পোস্টে। একাকী শুটিং অনুশীলন করতে। দূরপাল্লার শটে রুপনাকে কয়েকবার পরাস্ত করতে পারলেন, কিছু শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো।
পরের দিন বুধবার ডন বস্কো গ্রাউন্ডে অনুশীলনে নেমে বরাবরের মতোই বল পায়ে জাগলিংয়ে সুইডেন প্রবাসী এই ফরোয়ার্ড দেখালেন তার নিয়ন্ত্রণ। অনেকটা সময় বল শুন্যে রাখলেন, তার মতো করে সতীর্থদের কেউ কেউ চেষ্টা করল লম্বা সময় বল পায়ে রাখতে, কিন্তু পারল না কেউ। প্রস্তুতির শেষ দিকে এক কোণে গিয়ে তহুরা খাতুন ও শামসুন্নাহার জুনিয়রের সাথে আলাদাভাবে আনিকা করলেন অনুশীলন। এই তিন জনের মধ্যে মালদ্বীপ ম্যাচে আক্রমণভাগে তার সাথে থাকছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সঙ্গে যোগ হবেন ঋতুপর্ণা।
ঋতুপর্ণা ও শামসুন্নাহার ডান-বাম দিক থেকে যোগাবেন বল, আনিকাকে করতে হবে ফিনিশিং- আক্রমণভাগে বাটলারের ছক কার্যত এটাই। এখন দেখার অপেক্ষা, কোচের প্রত্যাশার প্রতিদান আনিকা দিতে পারেন কতটুকু, দলের গোলের প্রয়োজন মেটাতে পারেন কতখানি।
এই দাবি মেটানোর মতো পরীক্ষিত ফরোয়ার্ড বাটলারের হাতে আছেন কয়েকজন। এদের মধ্যে তহুরা একজন। গত উইমেন’স সাফে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করেন তিনি। ভুটানকে ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে করেন হ্যাটট্রিক। বাকি দুই গোল তহুরা করেন ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে।
গত আসরে আক্রমণভাগে উজ্জ্বল খেলোয়াড়দের মধ্যে তহুরার পরে ছিলেন ঋতুপর্ণা, ২টি গোল। ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে ৮১তম মিনিটে দূরপাল্লার চোখ ধাঁধানো শটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন তিনি। ওই আসরে মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা ও ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার জুনিয়র এবং দুই ডিফেন্ডার শিউলি আজিম ও আফঈদা খন্দকার একবার করে পেয়েছিলেন জালের দেখা।
২০২৪ সালের আলোচিত সেই বিদ্রোহের পর, সাবিনা খাতুনের জন্য দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় পুরোপুরি। এখন তিনি ফুটসাল নিয়ে আছেন। লম্বা সময় ধরে গোলের চাহিদা পূরণ করে আসছিলেন সাবিনাই। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করাদের তালিকায় সাবিনা দ্বিতীয়, ২৬টি। তার চেয়ে এক গোল বেশি নিয়ে শীর্ষে ভারতের বালা দেবি।
সাবিনা-পরবর্তী সময়ে তহুরা, ঋতুপর্ণা দলের গোলের চাহিদা মিটিয়ে চলেছেন। গত বছর উইমেন’স এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে ঋতুপর্ণা গোল করেছিলেন ৫টি, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা করেছিলেন ৩টি করে। গত মার্চে অস্ট্রেলিয়াতে হওয়া এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের কেউ জালের দেখা পাননি।
ওই এশিয়ান কাপে তিন ম্যাচ খেলে ব্যক্তিগত গোলের খাতায় আঁচড় ফেলতে পারেননি আনিকা। বৃহস্পতিবার মালদ্বীপ ম্যাচে লাল-সবুজের জার্সিতে তার গোলের অপেক্ষা ফুরাবে কিনা, জানা যাবে সময়ে। গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। বাটলারের বিশ্বাস শারীরিকভাবে শক্তিশালী আনিকা পারবেন।
“ফর্ম ও চোটের সাথে তহুরা লড়াই করছে। ভুটানে গিয়ে অসুস্থও হয়েছিল। আনিকা তরুণ ও শক্তিশালী, শারীরিক গড়নও শক্তপোক্ত, এ কারণে তাকে সুযোগ দিচ্ছি। কেন আমি অন্যদের সুযোগ দিচ্ছি না- যেমন সাগরিকা, আমি মনে করি, সেরা একাদশে ঢুকতে হলে তার আরও কঠোর পরিশ্রম করা প্রয়োজন।”
“আমি আনিকাকে সুযোগ দিচ্ছি, কারণ, সে ভালো তরুণ খেলোয়াড়। তহুরা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র এখন আর তরুণ নেই, তারা এখন অভিজ্ঞ।”