ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ
Published : 07 Jul 2024, 10:23 AM
স্বপ্নের মশাল বয়ে নিচ্ছিলেন যারা, দপ করে তা নিভে গেল তাদের একজনের হাত থেকেই। রক্ষণভাগে ভরসার প্রতিশব্দ হয়ে ছিলেন যে মানুয়েল আকঞ্জি, তিনিই ব্যর্থ হলেন টাইব্রেকারে গোল করতে। সেই একটি ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত থেমে গেল সুইজারল্যান্ডের আশার রথ। তাকে অবশ্য কাঠগড়ায় তুলছেন না কোচ মুরাত ইয়াকিন। বরং আসরজুড়ে অসাধারণ খেলার জন্য অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের প্রতি কৃতজ্ঞতাই জানালেন কোচ।
ইউরোর কোয়ার্টার-ফাইনালে শনিবার টাইব্রেকারে দলের প্রথম শটেই গোল করতে পারেননি আকঞ্জি। সেই ব্যবধান আর ঘুচিয়ে দেওয়া যায়নি। সব শট জালে পাঠিয়ে ৫-৩ গোলের জয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছে গেছে ইংল্যান্ড। ৭৫তম মিনিটে এগিয়ে গিয়েও মিনিট পাঁচেক পর গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে সুইজারল্যান্ড।
এমন হারের পর একজনকে কাঠগড়ায় তোলা খুবই সহজ। তবে সেই তিনি যখন সেরা পারফরমারদের একজন, স্রেফ একটি ভুলের জন্য তার দিকে আঙুল তোলাও কঠিন! তাই স্রেফ শেষের ব্যর্থতা নয়, আকঞ্জির সামগ্রিক সাফল্যই কোচের হৃদয়ে গেঁথে আছে বেশি।
“কোনো ফুটবলারকে একটি দায়িত্ব দেওয়ার পর তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হওয়া যায় না। এই ছেলেরা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলেছে, বিশেষ করে মানু (আকঞ্জি)। কী বলা যায় তাকে! সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুব একটা নেই।”
“সে যেভাবে পারফর্ম করেছে ও নেতৃত্ব দিয়েছে, সবকিছুর জন্য ওকে ধন্যবাদ দিয়েছি। সর্বোচ্চ পর্যায়ের পারফরম্যান্স ছিল তার। অবশ্যই হৃদয়ে গভীর শূন্যতা থাকবে, প্রবল বেদনা থাকবে। তবে এই ধরনের অনুভূতি সবাইকে ব্যক্তিগতভাবেই সামলাতে হবে।”

টাইব্রেকারে স্বপ্নভঙ্গের পর অনেকটা যেন দার্শনিক হয়ে গেলেন সুইজারল্যান্ডের কোচ। আকঞ্জিকেও তিনি বললেন, সবকিছু বৃহত্তর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে।
“দারুণ একটা ব্যাপার হলো, দিনশেষে ফুটবল স্রেফ একটি খেলাই। একদিক থেকে চিন্তা করলে, ফুটবল আমাদেরকে এত কিছু দিচ্ছে, কখনোই সবটুকু শোধ করা যাবে না। এটা অবিশ্বাস্য।”
“আজকের মতো এই ধরনের মুহূর্তও গোটা প্রক্রিয়ারই অংশ। একটা পেনাল্টিতে সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। এখন আর এটা নিয়ে তার ভাবার দরকার নেই। বিশেষ করে, টুর্নামেন্টজুড়ে সে যেভাবে খেলেছে এবং দলের দায়িত্ব কাঁধে বয়ে নিয়েছে…।”
তবে সান্ত্বনা-কৃতজ্ঞতার এই স্রোতে ইতিহাস গড়ার হাতছানি মিলিয়ে যাওয়ার আক্ষেপ আছে ইয়াকিনেরও। সেমি-ফাইনালের আগে বিদায়ের বেদনা স্পর্শ করছে তাকে।
“এত চেষ্টা করার পরও, অনেক সুযোগ পেয়েও যখন কাজে লাগানো যায় না, তখন তো কষ্ট লাগেই। এত ভালো খেলার পরও টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হওয়ায় দলের জন্য, গোটা জাতির জন্য খারাপ লাগছে।”