Published : 28 Jan 2026, 08:18 PM
ম্যাচের আগে-পরে কোর্টের বাইরে যেখানেই যান না কেন, খেলোয়াড়দের পিছু ছাড়ে না ক্যামেরা, ব্যক্তি গোপনীয়তা নেই বললেই চলে-অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলোয়াড়দের জন্য এটাই যেন স্বাভাবিক। তবে ম্যাচ হারের পর কোকো গাউফের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য জনসম্মুখে চলে আসায় এখন ক্ষুব্ধ অন্যরাও।
বেজায় ক্ষেপেছেন সাবেক নাম্বার ওয়ান ইগা শিয়াওতেক ও নোভাক জোকোভিচ। ক্রমেই বিষয়টি নিয়ে যে আলোচনা জোরাল হচ্ছে, তাতে যোগ দিয়েছেন তারা দুইজন।
কোয়ার্টার-ফাইনালের ম্যাচে মঙ্গলবার দ্বাদশ বাছাই এলিনা স্ভিতোলিনার বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেননি যুক্তরাষ্ট্রের গাউফ; ৫৯ মিনিটেই ৬-১, ৬-২ গেমে হেরে যান তৃতীয় বাছাই গাউফ।
হৃদয়ভাঙা ওই পরাজয়ের পর, কোর্ট থেকে বেরোনোর পর আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি গাউফ। স্টেডিয়ামের অনেক ভিতরে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, মাটিতে বারবার বাড়ি মেরে র্যাকেটও ভেঙে ফেলেন। এই সবকিছুই তিনি করেছেন স্টেডিয়ামের এমন জায়গায়, যেখানে অন্যদের প্রবেশ নিষেধ, কিন্তু সেখানে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ ক্যামেরা লাগিয়ে রেখেছে আর তাতে ধরা পড়েছে পুরো দৃশ্য।
ওই ভিডিও প্রচার করেছে টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ব্রডকাস্টার, যা দেখেছে সারা বিশ্বের মানুষ। আর এতে বিব্রত এবং একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ গাউফ। রাগান্বিত কণ্ঠে তিনি বলেন, একমাত্র লকার রুম ছাড়া স্টেডিয়ামের কোথাও খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা নেই।
বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে বুধবার যাত্রা থেমে গেছে শিয়াওতেকেরও। এলেনা রিবাকিনার বিপক্ষে ৭-৫, ৬-১ গেমে হেরে এই বছরের মতো শেষ হয়ে গেছে তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের আশাও; ফরাসি ওপেনে চারবারের চ্যাম্পিয়ন পোলিশ তারকা উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন জিতেছেন একবার।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেই পূর্ণ হবে তার ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম।
কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার হতাশা তো আছেই। সেই সঙ্গে গাউফের ওই ঘটনায় নিজেও বেশ বিরক্ত শিয়াওতেক। দুইয়ে মিলিয়ে ম্যাচের পর ক্ষোভ ঝারলেন ২৪ বছর বয়সী তারকা।
“প্রশ্নটা হলো, আমরা কি টেনিস খেলোয়াড় নাকি চিড়িয়াখানার জীব, যেখানে প্রকৃতির ডাকের সময়ও তাদের ওপর দৃষ্টি রাখা হয়।”
“আচ্ছা, ঠিক আছে, হয়তো একটু বেশি অতিরঞ্জিত হয়ে গেল। তবে আসল কথা হলো, নিজেদের কিছুটা গোপনীয়তা বজায় থাকলে ভালো হয়। নিজের অনুভূতি নিজের মতো প্রকাশের সুযোগ থাকলে এবং সবসময় দৃষ্টি রাখা না হলে ভালো হয়।”
এই বিষয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলবেন কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিয়াওতেক বলেন, “কী লাভ?”
খেলোয়াড়রা যেখানে ওয়ার্ম-আপ ও বিশ্রাম করে, সেখানেও ক্যামেরা রাখার সিদ্ধান্তের পক্ষে ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমর্থকদের গভীর যোগাযোগ স্থাপনকে’ যুক্তি হিসেবে দেখিয়েছে টেনিস অস্ট্রেলিয়া।
“আমাদের সবসময়ই লক্ষ্য থাকে এমন আবহ তৈরি করা, যা খেলোয়াড়দের সেরা পর্যায়ে পারফর্ম করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও ব্যক্তিত্ব যেন তাদের ভক্ত-সমর্থকদের মুগ্ধ করতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের আমান্দা আনিসিমোভাও বলেছেন, তিনি বিষয়টা জানেন যে মেলবোর্ন পার্কে খেলোয়াড়দের গোপনীয়তা নেই বললেই চলে। তিনি আরও বলেন, লকার রুমে ঢোকার আগ পর্যন্ত মাথা নিচু করেই থাকেন তিনি।
“অবশ্যই ভালো কিছু মুহূর্ত সেখানে থাকে, যা মানুষ দেখতে পায় এবং এটা বেশ মজারও। তবে যখন আপনি ম্যাচ হারবেন, তখন খুব ভালো কোনো মুহূর্ত থাকে না।”
গাউফের ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন জোকোভিচ। কিন্তু আগামীতে কম ক্যামেরা রাখার সম্ভাবনাও দেখছেন না সার্ব তারকা।
“আমি তার সঙ্গে একমত। আপনি কোথাও নিজের মতো করে যেতে পারবেন না, লুকাতে পারবেন না অথবা মনের কষ্ট, ক্ষোভ নিজের মতো করে প্রকাশ করবেন এবং তা ক্যামেরায় ধরা পড়বে না, সেটা হবে না- সবকিছু মিলে আসলেই বিষয়টা হতাশার।”
“আমি বরং অবাক যে আমাদের গোসল করার জায়গায় কোনো ক্যামেরা নেই। হয়তো এটা আগামীতে হবে। আমি এর বিপক্ষে।”