রাবির ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি: ‘এ’ ইউনিটে প্রথম তানভীরের ফল বাতিল

তানভীর আহমেদের হয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী বায়েজিদ খান। পরীক্ষা শেষে ধরা পড়লে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2022, 01:57 PM
Updated : 3 August 2022, 01:57 PM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ সেশনের 'এ' ইউনিটে অন্যকে দিয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে প্রথম হওয়া তানভীর আহমেদের ফল বাতিল করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফল বাতিলের তথ্য জানান।

মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে ফল প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার। প্রকাশিত ফলাফলে তানভীরের প্রথম হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।

সেখানে দেখা যায়, তানভীর আহমেদ ‘এ’ ইউনিটের গ্রুপ-২-এ প্রথম হয়েছেন। তার রোল নম্বর ৩৯৫৩৪। প্রাপ্ত নম্বর ৯২ দশমিক ৭৫। ফলাফলে তানভীরের পজিশন লেখা হয় ১।

তানভীর আহমেদের হয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন রাবিরই ফোকলোর বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী বায়েজিদ খান। পরীক্ষা শেষে ধরা পড়লে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠায়।

তানভীর আহমেদের প্রথম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে 'এ' ইউনিটের সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, “তার হয়ে কেউ প্রক্সি দিয়েছে, এ তথ্য আমাদের দেওয়া হয়নি। প্রক্সি ধরা পড়লে তার খাতা আলাদা করে ফেলা হয়। কিন্তু এটি আমাদের জানানো হয়নি। সেজন্য তার নাম চলে আসে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে জানা যায়, চারজনের মধ্যে এখলাসুর ও ডা. সমীর যে দুই শিক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষায় বসেছিলেন তাদের খাতা বাতিল করা হয়। কিন্তু জান্নাতুল মেহজাবিন ও বায়েজিদ খান যাদের হয়ে পরীক্ষায় বসেন তাদের খাতা বাতিল হয়নি। ফলে তানভীর আহমেদ ’এ’ ইউনিটের গ্রুপ-২-এ প্রথম হন। প্রক্সি ভাড়া নেওয়া শিক্ষার্থী ইশরাত জাহানও পাস করেছেন। তার স্কোর ৪৬ দশমিক ৯০। ইশরাতের পরীক্ষা দিয়েছেন জান্নাতুল মেহজাবিন।

এ বিষয়ে রাবির জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রদীপ কুমার পাণ্ডে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ইশরাত জাহানের যে স্কোর তাতে ভর্তির সুযোগ হবে না। তবে তানভীরের বিষয়টি নজরে আসার পরই উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কো-অর্ডিনেটর জরুরি সভায় বসেন। সভায় তানভীরের ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়, যেহেতু এটা প্রমাণিত যে, তার পরীক্ষা বায়েজিদ দিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “আর কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ রকম আরও পাওয়া গেলে সে ফলাফলও বাতিল করা হবে।”

মঙ্গলবার রাতে ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সে ফল প্রকাশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।

ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানানো হয় ‘এ’ ইউনিটে চারটি শিফটে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে গ্রুপ-১ এ পাসের হার ৪৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। সর্বোচ্চ নম্বর ৮২ দশমিক ৮০। গ্রুপ-২ এ পাসের হার ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ, সর্বোচ্চ নম্বর ৯২ দশমিক ৭৫। গ্রুপ-৩ এ পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৩, সর্বোচ্চ নম্বর ৯৩ দশমিক ১৫। গ্রুপ-৪ এ পাসের হার ৫০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ নম্বর ৮৪ দশমিক ৬৫। এ পরীক্ষায় অংশ নেন ৬১ হাজার ৯০ জন শিক্ষার্থী।

গত ২৬ জুলাই ‘এ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে বায়েজিদসহ ধরা পড়েন চারজন। প্রত্যেককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী মো. এখলাসুর রহমান। তিনি ভর্তি পরীক্ষার রোল ১৭২২৮ এর পরীক্ষার্থী লিমনের হয়ে প্রক্সি দেন। আরেকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল মেহজাবিন ভর্তি পরীক্ষা রোল ৬২৮২৮ এর পরীক্ষার্থী ইশরাত জাহানের হয়ে প্রক্সি দেন।

এ ছাড়া খুলনার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের প্রভাষক ডা. সমীর রায় ৮৪৬৪৮ রোল নম্বরের রাহাত আমিন নামের এক শিক্ষার্থীর হয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বসেছিলেন। তাদের সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক