ভোট দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল।
Published : 21 Jun 2023, 12:25 PM
পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনে জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। তবে কয়েকটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেছেন, জাতীয় পার্টির যারা এজেন্ট হিসেবে এসেছেন, তারা আছেন। বাকি বুথে এজেন্ট আসেনি।
বুধবার সকালে নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুবিদবাজারের আনন্দ নিকেতন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেন জাতীয় পার্টির মেয়র পদপ্রার্থী। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিযোগ করেন।
আনন্দ নিকেতন কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা পেশিশক্তি প্রদর্শন করছে অভিযোগ করে নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, “আমি শুরু থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলাম, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চলছে। আমি আনন্দ নিকেতন স্কুলে ভোট দিতে এসেছি। এখানে পেশীশক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। ভোটার না, কিচ্ছু না, তবুও নৌকার কার্ড গলায় ঝুলিয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটারদের ধমকাচ্ছে সন্ত্রাসীরা।
“আমার কাছে বার বার ফোন আসছে, নগরীর বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে লাঙ্গলের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে, অনেক কেন্দ্রে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি।”
কোথায় কোথায় এমন হচ্ছে জানতে চাইলে লাঙ্গলের প্রার্থী বলেন, “এইমাত্র খবর পেলাম সিলেট সরকারি পাইলট হাই স্কুল কেন্দ্র থেকে আমার লাঙ্গলের সকল এজেন্টকে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি এখনই যাচ্ছি পাইলট স্কুলে। আমি নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জানাব।“
তিনি বলেন, “পূর্ব-পরিকল্পিত ও নীল-নকশার অংশ হিসেবে তারা ভোট চুরির পাঁয়তারা করছে। পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে সিলেটের নির্বাচনের দিকে। তবে আমি বলে দিতে চাই, যে নোংরামি শুরু হয়েছে, তাতে ভোট সুষ্ঠু হওয়ার কোনো সুযোগ নাই। আমি নির্বাচনের মাঠে আছি। মাঠ ছাড়াতে কোনো সুযোগ আমার নাই। জনগণ লাঙ্গলকে ভোট দিতে চায়। এ কারণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার ভোটার ও এজেন্টদের হয়রানি করছে।”
বাবুল বলেন, “সকালে ঘণ্টাখানেক কাজ করেনি ইভিএম। এটাও চক্রান্তের অংশ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, রিটার্নিং কর্মকর্তা সকলেই নৌকার প্রার্থীর পকেটে। আমি ফলাফল ঘোষণার পর সবকিছু বলব ইনশাআল্লাহ।
“মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাঙ্গলে ভোট দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু ভোট হলে ও পেশীশক্তির প্রভাব না পড়লে লাঙ্গলই জিতবে”, যোগ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী।
অনেক কেন্দ্রে লাঙ্গলের এজেন্ট নেই
সিলেটের অনেকগুলো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় পার্টির কোনো এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।
লাঙ্গলের এজেন্ট কেন নেই জানতে চাইলে ওই সব কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা বলেন, লাঙ্গলের এজেন্ট আসেনি। যারা এসেছেন তারা দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার সকালে নগরীর বালুচর এলাকার সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে যায়, বুথে সব প্রার্থীর এজেন্ট রয়েছেন। কিন্তু লাঙ্গলের কোনো সেখানে এজেন্ট পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার সরোজ কুমার বলেন, “যারা এজেন্ট দিয়েছেন তাদের সবাই আছেন। কোনো প্রার্থী এজেন্ট না দিলে তো আমাদের কিছু করার নাই।”
সিলেট এমসি কলেজ কেন্দ্রে মোট আটটি বুথ। এর মধ্যে দুটিতে জাতীয় পার্টির এজেন্ট পাওয়া গেছে। বাকি ছয়টিতে লাঙ্গলের কোনো এজেন্ট নেই।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. ময়নুল হক জানান, “এখানে মোট আটটি বুথ রয়েছে। জাতীয় পার্টির দুজন এজেন্ট এসেছেন। বাকিরা কেন আসেননি তা আমি জানি না। আমার কেন্দ্রে সকাল থেকে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ভোট চলছে।“
মেজরটিলার দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের নয়টি বুথের মধ্যে জাতীয় পার্টির একজন এজেন্ট আছেন।
এই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, “আমার কেন্দ্রে জাতীয় পার্টি একজন এজেন্ট দিয়েছে। আর কেউ আসেননি। কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৯৪০। ভোটারদের উপস্থিতি ভালো। তবে ভোট দিতে দেরি হচ্ছে, একটু সময় লাগছে ভোটারদের।”
এই এলাকার হয়রত শাহজালাল (র.) উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রেও একই অবস্থা।
এ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, কেন্দ্রের আটটি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। মোট ভোটার তিন হাজার ৮৫ জন, ভোটার উপস্থিতি ভালো।
“তবে জাতীয় পার্টির কোনো এজেন্ট দেওয়া হয়নি এই কেন্দ্রে।“
নৌকা ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের এজেন্ট আছে
শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছে। তবে এ কেন্দ্রে শুধু নৌকার এজেন্ট আছে।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শাহ দাস্তগির আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৪১৮ জন। মোট সাতটি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ ভালো আছে। লাঙ্গলসহ অন্য মেয়র প্রার্থীদের কোনো এজেন্ট নাই বলে জানান তিনি।
প্রথমবারের মত সিটি নির্বাচনের ভোট এবং ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের যুগীপাড়ার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন (৪৫)।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “অভিজ্ঞতা অনেক ভালো ছিল। আগে কাগজে সিল দেওয়ার বদলে এখন সহজ মনে হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ সব দিক দিয়ে ঠিক আছে।”
হাবীব আহমেদ (২১) বলেন, ইভিএমে ভোট দিতে ভালো লেগেছে। বয়স্কদের জন্য একটু অসুবিধা হয়ে গেছে। কিন্তু আমাদের মত তরুণদের অসুবিধা হয়নি। কেন্দ্রের পরিস্থিতি ভালো।
অন্যান্য কেন্দ্রের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্র হওয়ায় এই এলাকা অনেক শান্ত। পুলিশ প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা রয়েছে বলে জানান হাবীব।