নারায়ণগঞ্জে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন-ছিনতাই, ক্রসফায়ারের হুমকি

দেড় লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে দুজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 10 Sept 2022, 11:23 AM
Updated : 10 Sept 2022, 11:23 AM

নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ী ও তার প্রবাসী আত্মীয়কে তুলে নিয়ে নির্যাতন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, বুধবার রূপগঞ্জ উপজেলার গন্ধর্বপুর এলাকা থেকে তাদের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। দুই ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়ার সময় ঘটনা কাউকে জানালে তাদের ফের তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন জানালেও রূপগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) তারিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা বিষয়টি শুনেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে জেনেছি, আমাদের কোনো টিম ওইদিন ওই সময়ে অভিযানে ছিল না।

“কোনো দুষ্কৃতকারী ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

দুই ভুক্তভোগী হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী বাগবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী মনির হোসেন ভূঁইয়া এবং তার কুয়েত প্রবাসী শ্যালক রমজান ভূঁইয়া।

ব্যবসায়ী মনির হোসেন ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বুধবার তারা রূপসী স্ট্যান্ড সংলগ্ন যমুনা ব্যাংক থেকে দেড় লাখ টাকা তুলে বের হন। ব্যাংকের সামনে থেকে ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইকে চড়ে ভূমি অফিসের দিকে রওয়ানা হন। একটি ব্যাগে দলিল ও টাকা ছিল। গন্ধর্বপুর হাজীবাড়ি এলাকায় সিটি অটো রাইস মিলের সামনে একটি সাদা রঙের নোয়াগাড়ি তাদের ইজিবাইকের গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে সাদা পোশাকে পাঁচজন নেমে আসেন। তাদের দুইজনের পরনে ‘ডিবি পুলিশ’ লেখা পোশাক ছিল। একজনের হাতে ছিল ওয়াকিটকি।

“গাড়ি থেকে নামার পরপরই ইয়াবা ব্যবসায়ী বলে আমাদেরকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন তারা। প্রতিবাদ করলে তাদের কাছে ওয়ারেন্ট আছে বলে জানান। কাগজ দেখতে চাইলে তারা ক্ষেপে যান এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। পাঁচ মিনিট তর্ক-বিতর্ক হয়। অনেক ধাক্কাধাক্কি করে আমাদের দুজনকে গাড়ি তুলে নেয়।”

মনির হোসেন বলেন, গাড়িতে তোলার পরপরই দুজনের চোখ কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। হাতকড়া পরানো হয়। এরপর গাড়ির মেঝেতে ফেলে মারধর শুরু করে। গাড়িতে চালকসহ মোট ছয়জন ছিলেন। তারা রাজশাহী অঞ্চলের ভাষায় কথা বলছিলেন।

“তখন টাকা-পয়সা রাইখা আমাদের ছাইড়া দিতে বলি। এইটা শোনার পর তারা ক্ষেপে যায়। মারতে মারতে বলে, ‘তোদের কি টাকা নেওয়ার জন্য তুলছি? তোদের ক্রসফায়ারে দিমু।’”

গাড়ি অনেক ভাঙাচোরা জায়গা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় তারা ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলে জানান মনির হোসেন। কাথাবার্তা শুনে মনিরের ধারণা হয়, তারা ভুল তথ্যে দুজনকে ধরেছে।

পরে ব্যাগে থাকা দেড় লাখ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন রেখে যোহরের আজানের সময় ভুলতা আধুরিয়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওপর নামিয়ে দেয় দুজনকে। এ সময় এ কথা কাউকে জানালে আবার তুলে নিয়ে ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তারা গাড়ি নিয়ে নরসিংদীর দিকে চলে যায় বলে জানান মনির হোসেন।

ওইদিন সন্ধ্যায় রূপগঞ্জ থানায় গিয়ে তারা অভিযোগ দেন জানিয়ে মনির বলেন, “এজাহারে বিস্তারিত ঘটনা লিখি। পরে ওসি সাহেব বলেন, একটু এডিট করতে হবে। তারপর আর ওই কপি দেখতে পাই নাই।”

এ বিষয়ে জানতে রূপগঞ্জ থানার ওসি এ এফ এম সায়েদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক