সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারীদের কথা শুনলেন বেলজিয়ামের রানি
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় বেলজিয়ামের রানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
বাংলাদেশ সফরে আসা বেলজিয়ামের রানি মাটিল্ডা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার নারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তিনি উখিয়ার কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান বলে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মো. সামছু-দ্দৌজা নয়ন জানান।
তিনি বলেন, ক্যাম্পে পৌঁছে রানি রোহিঙ্গা শিশুদের লার্নিং সেন্টার গিয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি দেখেন এবং মিয়ানমারে সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় তিনি ক্যাম্পে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন দেখার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় বেলজিয়ামের রানি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে কথা বলেছেন তার সঙ্গে থাকা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বেলজিয়ামের রানির এ সফর বাংলাদেশ-বেলজিয়ামের মধ্যে সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়ক ভমিকা রাখবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে বাংলাদেশ যে সহায়তা দিচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও জোরালোভাবে আলোচনা হবে। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে স্বসম্মানে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বেলজিয়ামের রানি। সেখান থেকে সড়ক পথে সরাসরি উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছান।
এ সময় কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাশন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ছিলেন।
তিনদিনের সফরে মাটিল্ডা সোমবার ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তাকে স্বাগত জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিবের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ‘অ্যাডভোকেটের’ হিসেবে রানি মাটিল্ডার এই বাংলাদেশ সফর। জাতিসংঘের মহাসচিবের ১৭ জন এসডিজি অ্যাডভোকেট আছেন, তাদেরই একজন বেলজিয়ামের রানি।
তিনদিনের সফরে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছাড়াও একটি পোশাক কারখানা, স্থানীয় স্কুল এবং বন্যার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রকল্প পরিদর্শন করার কথা রয়েছে তার।
খুলনায় পানি নিয়ে ইউএনডিপির একটি প্রকল্পও পরিদর্শনের কথা রয়েছে রানির।
