Published : 03 May 2023, 09:27 PM
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগে ঐক্য নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র কিনেছেন সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা।
১৯৮০ ও ৯০ এর দশকে স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের বেশ জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তিনি। এখন আওয়ামী লীগ করেন। তবে দলে কোনো পদ নেই।
তার নাম আবদুল হানিফ কুটু। তিনি সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে দুইবার জিতেছেন। দাবি করেছেন, ‘নেতা-কর্মীদের ‘চাপ’ তাকে এই পদক্ষেপ নিতে’ প্ররোচিত করেছে।
সিলেটে প্রচার আছে, আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কারও কারও কুটুর প্রতি সমর্থন আছে। এতে দলে বিভক্তির আশঙ্কা থাকলেও নৌকা পেতে যাওয়া আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন না। বরং তার দাবি, ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী বাড়বে বলে তিনি ‘আনন্দিত’।
বিএনপি এই নির্বাচন বর্জন করবে বলে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। তবে বিএনপি নেতা বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী স্বতন্ত্র পরিচয়ে প্রার্থী হতে পারেন। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার কথা।
আরিফ যদি শেষ পর্যন্ত ভোটে না আসেন, তাহলে কী হবে, এই প্রশ্নের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল থেকে দুই জনের প্রার্থী হওয়ার এই ইঙ্গিত মিলল।
গত মঙ্গলবার সিলেট সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন কুটু। তিনিই প্রথম সম্ভাব্য প্রার্থী, যিনি মেয়র পদে ফরম তুলেছেন।
আগামী ২১ জুনের ভোটে অংশ নিতে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ২৩ মে পর্যন্ত। সেটি বাছাই হবে দুদিন পর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১ জুন।
এই সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ছিলেন বেশ কয়েক জন। তাদের মধ্যে কুটুর কথা শোনা যায়নি।
সিলেটে এবার নৌকার প্রার্থী হতে ফরম জমা দেন ১০ জন। তাদের মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে।
কুটু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার সময় আমি বিদেশে ছিলাম। তাই তা কিনে জমা দিতে পারিনি।”
“দেশে আসার পর অনেক নেতা-কর্মী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। পরিচিতি থাকলে জনগণ ভোট দেবে, আর না থাকলে দেবে না।”
কেন আপনাকে মানুষ ভোট দেবে- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমার দাদা, বাবা, আমি ও আমার সন্তানদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা সিলেটে। আমাকে যারা জানে, তারা মূল্যায়ন করবে।”
সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী জানান, কুটুর দলীয় কোনো পদে নেই। তবে এলাকায় আওয়ামী লীগার হিসেবেই পরিচিত। তিনি মনোনয়ন ফরম কেনার পর থেকে দলের ভেতরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
কে এই কুটু
১৯৮০ ও ৯০ দশকে সিলেট ছাত্রলীগে আবদুল হানিফ কুটুর বেশ প্রভাব ছিল।
তিনি ১৯৮৬-৮৭ সালে ছাত্রলীগের মনোনয়নে সিলেটের এমসি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ছাত্র সংসদে নির্বাচন করে ভিপি নির্বাচিত হন।
১৯৯১-৯২ সালে একই ছাত্র সংগঠনের ব্যানারে নির্বাচন করে সিলেট সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হন।
সিলেট জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটি এবং জেলা যুবলীগের সদস্য হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। পরে রাজনীতিতে ধীরে ধীরে অবস্থান হারান।
কুটুর স্ত্রী নাজনীন আকতার যুব মহিলা লীগের জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি। তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।
কুটু বর্তমানে টিলাগড় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে টিলাগড় ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।
আওয়ামী লীগের আনোয়ারুজ্জামান ‘খুশি’
মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিলেটে ছাত্র রাজনীতি ইতিহাসে আবদুল হানিফ কুটুর নাম রয়েছে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন এবং তার ব্যাপক পরিচিতিও ছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে আগের মত সক্রিয় নন। সিটি নির্বাচনে এসে তিনি আবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। তিনি কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, সেটা সময়ই বলে দেবে।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ বলেন, “কুটুর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের বিষয়টি প্রথম শুনেছি। তবে উনার কোনো কার্যক্রমও আমরা দেখিনি।“
নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ টি এম এ হাসান জেবুল বলেন, “উনি (কুটু) যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় না; তাই আমার মনে হয় নির্বাচনে থাকলেও আওয়ামী লীগের কোনো সমস্যা হবে না।”
আর আওয়ামী লীগ মনোনয়ন পাওয়া আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “এটা (কুটুর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ) ইতিবাচক বিষয়। আমরা আশা করছি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন।
“যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন। আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি একটি জমজমাট নির্বাচন হবে।”
ফরম সংগ্রহ করেছেন যারা
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের (সিটি নির্বাচন) কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, বুধবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত মেয়র পদে দুইজন ও কাউন্সিলর পদে ১৬৯ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন।
কুটু ছাড়া দ্বিতীয় জন হলেন আব্দুল মান্নান খান, তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান।
সংরক্ষিত (নারী কাউন্সিলর) পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ জন ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন কিনেছেন মনোনয়ন ফরম।
সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন , ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন , ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ জন, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১ জন, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১০ জন, ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন মনোনয়ন ফরম তুলেছেন।