Published : 05 Aug 2023, 07:31 PM
অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার থেকে পরবর্তীতে নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
ফলে জেলার সঙ্গে ছয়টি উপজেলার লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় নৌ চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে।
“সেই নিদের্শনা অনুযায়ী জেলার সব লঞ্চ, বোট ও স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা রয়েছে। একই সঙ্গে পর্যটক ভ্রমণকারী ছোট ছোট বোটগুলোও বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, “রাঙামাটি জেলায় চলমান অতি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ৫ অগাস্ট থেকে পরবর্তীতে নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।”
তবে আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি সরকারি কাজে নিয়োজিত নৌযান নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য উপজেলার সঙ্গে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
শহরের পর্যটন ঘাটের ট্যুরিস্ট বোট ঘাটের ইজারাদার মো. রমজান আলী বলেন, “পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় বোট চলাচল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। আমরাও বোট চলাচল বন্ধ রেখেছি। তবে পর্যটক আসছেন; তারাও হ্রদে ঘুরতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন।”
রাঙামাটি আবহাওয়া কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ দশমিক ২২ মিলিমিটিার এবং গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৭১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাহাড় ধসের শঙ্কায় মাইকিং
সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত থাকায় মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে শহরে মাইকিং করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন থেকে করা মাইকিংয়ে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে থাকা বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের জন্য শহরে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা রয়েছে।
তবে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত থাকলেও, সেখানে যেতে আগ্রহ দেখা যায়নি বসবাসকারীদের।
বৃহস্পতিবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও শনিবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।