সাগরে লঘুচাপে সাতক্ষীরায় বৃষ্টিপাত, উপকূলের ৩৫টি পয়েন্টে ঝুঁকিতে বেড়িবাঁধ

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ইতোমধ্যে শতশত বিঘা মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 03:49 PM
Updated : 14 Sept 2022, 03:49 PM

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে পানি বেড়ে বেড়িবাঁধের অনেক স্থানে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।    

বুধবার সকাল থেকে হালকা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। 

জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, ইতোমধ্যে উপকূলীয় সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জোয়ারের সময় বাঁধের কানায় কানায় পানি উঠছে। পানিতে বহু মাছের ঘের ভেসে গেছে। 

উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে এক থেকে দুই ফুটের অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছে সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো বলছে, লঘুচাপের প্রভাবেও উপকূলীয় এলাকার জরাজীর্ণ ৩৫টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুঁকির মধ্যে আছে। 

উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিএম মাসুদুল আলম জানান, থেমে থেমে মাঝারি ও ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নদীতে জোয়ারের সময় বাতাসের তীব্রতা বাড়ছে। ইতোমধ্যে ভারি বর্ষণের কারণে সহস্রাধিক বিঘা মাছের ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গাবুরা, নাপিতখালি, জেলেখালিসহ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। 

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম বলেন, “দাতিনাখালীর ওই এলাকাটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। চুনা নদীর স্রোত লোকালয়ের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে গোড়ার মাটি সরে গিয়ে বেঁড়িবাঁধ ধসের ঘটনা ঘটেছে মাত্র কয়েকদিন আগে। আবার নতুন একটি জায়গায় একই ঘটনা ঘটেছে।”

আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন, তার ইউনিয়নের গদাইপুর এলাকায় খোলপেটুয়ার নদী সাত-আট হাত জারাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। পরে তা স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে। তবে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্রায় দুই শতাধিক বিঘা মাছের ঘের ডুবে গেছে। 

তারা আরও বলেন, ওইসব এলাকায় যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে।  

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, “বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। ফলে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দুই ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা আছে।”

তিনি আরও বলেন, “বঙ্গপোসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আগামী দু-একদিন আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি থাকবে, তারপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।” 

মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান এ আবহাওয়া কর্মকর্তা। 

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সাতক্ষীরা-১ ও সাতক্ষীরা-২ এই দুটি পোল্ডারে মোট ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৩৫টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার উপকূল রক্ষা জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ আছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার অনেক জায়গায় চলমান আছে। 

আটুলিয়ার বিড়ালক্ষ্মী ও বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালীতে বেড়িবাঁধেও ফাটল দেখা দিয়েছে বলে জানান পাউবোর এ প্রকৌশলী।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক