জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ ছাত্রের আবেদন

নিজের সংগঠনের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন চার ‘ছাত্রলীগ কর্মী’।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 August 2022, 02:23 PM
Updated : 8 August 2022, 02:23 PM

‘নিজ সংগঠনের প্রতিপক্ষের গুপ্ত হামলার আশঙ্কায়’ জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন চার শিক্ষার্থী।

রোববার বিকেলে তারা আবেদন করেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম জানান।

শিক্ষার্থীরা হলেন- লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাব্বি খান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ইরাজ রব্বানী, বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের সাব্বির হোসেন এবং রসায়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র সাইমুন ইসলাম।

আবেদনকারীরা নিজেদের ছাত্রলীগের নেতা বলে দাবি করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠনটির কোনো কমিটি নেই বলে জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মীরা দুটি ধারায় বিভক্ত।

ছাত্রলীগের একটি অংশের ‘নেতা’ দাবিদার অমিত হাসান রক্তিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোরবানির ছুটি শেষে ২০ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হয়। কিন্তু ক্যাম্পাসে এলে ছাত্রলীগ কর্মী মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত এবং তার সহযোগীরা নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।”

রক্তিম আরও অভিযোগ করেন, “রাব্বি খানের বাসায় গিয়েও তারা হুমকি দিয়েছে। আমাদের বিভিন্ন সময় পরীক্ষা দিতে হয়, ক্লাসেও যেতে হয়। কাউকে একা পেলে তার ওপর হামলা হওয়াসহ গুপ্ত হামলার আশঙ্কা করছি আমরা।”

তাই চারজন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। এরপর প্রক্টর তাদের ডেকে পাঠিয়েছেন এবং নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান রক্তিম।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অপর অংশের ছাত্রলীগ কর্মী মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আবেদনকারীরা অভিযোগ করেছেন, কোরবানির বন্ধের পর তাদেরকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ওই সময়ের পর থেকে ক্যাম্পাসে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এটা হচ্ছে ক্যাম্পাসে আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার একটি চক্রান্ত মাত্র।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর খোরশেদ আলম আরও বলেন, চারজনের আবেদন পাওয়ার পরই স্ব স্ব বিভাগীয় প্রধান ও ছাত্র উপদেষ্টাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

“একই সাথে আবেদনকারীদের ক্লাশ ও পরীক্ষায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে ক্লাস ও ক্যাম্পাসে আসার জন্য বলা হয়েছে”, যোগ করেন প্রক্টর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক