কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় তিন বছর ধরে বন্ধ দুর্গাপূজা
সারা দেশে দুর্গাপূজার আনন্দ-উৎসব চললেও এখানকার চিত্র ভিন্ন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় টানা তিন বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না।
টাকার অভাব, উদ্যোগের ঘাটতি ও হিন্দু পরিবার কমে যাওয়ায় পূজার আয়োজন বন্ধ রয়েছে বলে স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলোর ভাষ্য।
এবার ফুলবাড়ী উপজেলায় ৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হলেও দাসিয়ারছড়ায় কোনো আয়োজন নেই বলে জানান উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক অমলচন্দ্র রায়।
দাসিয়ারছড়ার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা সুবর্ণা রানী বলেন, “ঘরের কাছোত মণ্ডপ নাই, বাজি পোড়া নাই। ছওয়া-পওয়াগুলার মধ্যে আগের সেই আনন্দ আর নাই। কি আর করার, কষ্ট করি দূর-দূরান্তত গিয়া পূজা করা নাগছে।”
একই এলাকার বিরোবালা বলেন, “আগে আমাদের বাড়ির সামনের জায়গায় দুর্গাপূজা করা হত। এখন হিন্দু মানুষ কম। টাকা-পয়সার অভাবের কারণে এখানে আর পূজা হয় না।”
কালিরহাট কালিমন্দির কমিটির সদস্য সুধন মোহন্ত বলেন, “টাকার সংকট, উদ্যোক্তার অভাব ও হিন্দু কমে যাওয়ায় তিন বছর ধরে আমরা পূজার আয়োজন করতে পারছি না।”
কুড়িগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি রবি বোস বলেন, “আর্থিক সংকট ও হিন্দু পরিবারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চলতি বছর দাসিয়ারছড়ায় পূজামণ্ডপ স্থাপন করা যায়নি। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ ও সহযোগিতারও অভাব রয়েছে।”
কুড়িগ্রাম জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অলক সরকার বলেন, “দাসিয়ারছড়ায় সর্বশেষ ২০২৩ সালে পূজামণ্ডপের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পূজার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। এর আগে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় পূজার আয়োজন করা হতো। আগামীতে প্রশাসন উদ্যোগী হলে দাসিয়ারছড়ায় আবারও পূজার আয়োজন করা সম্ভব হবে। আমরাও সংগঠনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিশেষ নজর দেব।”
অমলচন্দ্র রায় বলেন, “এবার উপজেলায় ৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হচ্ছে। তবে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় কোনো আয়োজন করা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তারা আগামী বছর পূজার আয়োজন করবেন বলে জানিয়েছেন।”
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১২টি বিলুপ্ত ছিটমহলের একটি দাসিয়ারছড়া। এখানে এক হাজার ৩৬৪টি পরিবারের মধ্যে ৭৫ থেকে ৮০টি হিন্দু পরিবার রয়েছে।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পর দাসিয়ারছড়া বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়।
