চট্টগ্রাম নগরীতে বিদ্যানন্দের ‘৫ টাকার পূজার বাজার’
এই বাজারে একজন ক্রেতা শাড়ি, জামা, লুঙ্গি, তেল, চাল, ডাল, ডিম, নারিকেল, হ্যান্ডওয়াস, সাবানসহ ২৯ রকমের পণ্য কেনার সুযোগ পেয়েছেন।
পূজার পোশাক থেকে খাদ্যপণ্য সব মিলেছে নামমাত্র মূ্ল্যে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে পূজার আনন্দ দিতে এই আয়োজন করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটা সারবজনীন পূজা মন্দির প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়।
‘৫ টাকার পূজার বাজার’ নামের এই বাজারে একজন ক্রেতা শাড়ি, জামা, লুঙ্গি, তেল, চাল, ডাল, ডিম, নারিকেল, হ্যান্ডওয়াস, সাবানসহ ২৯ রকমের পণ্য কেনার সুযোগ পেয়েছেন।
এই বাজার থেকে দুই টাকায় এক লিটার তেল, এক টাকায় এক কেজি মসুর ডাল আর ৫০ পয়সায় এক কেজি চাল কেনার সুযোগ পেয়েছে ৫০০টি পরিবার।
দুর্গাপূজার আনন্দ ও উৎসবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সাম্য, মানবিকতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, “ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। উৎসবের আনন্দ যেন শুধু সচ্ছল মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন এতে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
“বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের একটি মানবিক উদ্যোগ এই বাজার। এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।”
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে অনেক নিম্ন আয়ের পরিবারের পক্ষে উৎসবের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
“আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো পরিবার যেন পূজার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।
“এই বাজার শুধু নামমাত্র মূল্যে কেনাকাটার একটি আয়োজন নয়; এটি মানুষের মর্যাদা, সাম্য ও সম্প্রীতির প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি, উৎসবের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
বাজার থেকে কেনাকাটা করতে আসা একজন নারী বলেন, “আমাদের সংসার চলে খুব কষ্টে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। পূজার সময় পরিবারের জন্য কিছু কেনাকাটা করার ইচ্ছা থাকলেও টাকার অভাবে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয় না।
“এখানে এত কম দামে পূজার জিনিসপত্র কিনতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আমার মতো সাধারণ পরিবারের মানুষও এখন পরিবারের সঙ্গে আনন্দ করে পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নিতে পারবে। এই উদ্যোগের জন্য বিদ্যানন্দকে ধন্যবাদ।”
