Published : 12 Jun 2023, 05:03 PM
বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মেয়র পদপ্রার্থী মুফতী সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার পর বিক্ষুব্ধ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা হাতে মিছিল নিয়ে নগরীতে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দিয়ে থামিয়ে দেয়।
সোমবার দুপুরে নগরীর ছাবেরা খাতুন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথার কাছে হাতপাখার প্রার্থীর হামলার ঘটনা ঘটে।
নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে দেওয়া অভিযোগে ফয়জুল করীম অভিযোগ করেছেন, ৩০-৪০ জন ‘নৌকা সমর্থক’ অতর্কিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলায় তিনি রক্তাক্ত হয়েছেন। এ সময় সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরাও হামলার শিকার হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলটির নেতাকর্মীদের কাছে এই হামলার খবর পৌঁছার পর পরই উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে লাঠিসোটা নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে নগরীর ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর বাজার এলাকায় জড়ো হতে থাকেন।
একপর্যায়ে সেখান থেকে শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে নগরীর ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। বিক্ষোভকারীরা হামলার প্রতিবাদ, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
পুলিশ তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলে তারা সেখানে থেমে যান এবং নামাজের জন্য একটি মসজিদে প্রবেশ করেন।
বরিশাল এয়ার পোর্ট থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বিকাল ৪টার দিকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তারা জড়ো হয়েছিলেন, পরে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কাশীপুরে ডিজিএফআই অফিসের বিপরীতে হাতপাখার একটি নির্বাচনী কার্যালয় রয়েছে। তারা এখন সেখানে আছেন। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।”
বরিশাল বন্দর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দুপুরের পর তারা জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। সবশেষ কী অবস্থা তা আমি জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে, আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।“
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার স্থানীয় কয়েকজন জানান, শত শত হাতপাখার কর্মী ওই এলাকায় জড়ো হয়ে আছেন। তবে তারা সেখানে বিক্ষোভ বা মিছিল করছেন না।
চরমোনাই পীরের সমর্থকরা হামলার পর বরিশাল নগরীতে ঢোকার চেষ্টা করছে, বিষয়টি নজরে আনলে ঢাকায় নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেন, “এই ঘটনা ম্যানেজ করে প্রতিহত করা হয়েছে।”
বাড়তি নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওখানে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ সবাইকে নিয়োজিত করে বিশেষ করে নদীর ওপাশ থেকে যারা আসছিল, নৌ-পুলিশ (কোস্টগার্ড) দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করা হয়েছে, তারা যেন এখানে ঢুকে বিশৃঙ্খলা না সৃষ্টি করতে পারে।
“যেই ব্যক্তি এই অন্যায় করেছে, তাকে উচিত শাস্তি পেতেই হবে। এতে আমাদের তরফ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। বরিশালের টোটাল ভোটকেন্দ্রগুলো, বরিশাল শহর পুরোটাই প্রকেক্টেড।
নগরীতে সকাল ৮টা থেকে ১২৬ কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ছোটখাট কিছু অভিযোগের বাইরে ভোটগ্রহণ মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের লাইনও ছিল।
এর মধ্যেই হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর তিনি নির্বাচন কমিশন ও মহানগর পুলিশের কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ঘিরে হঠাৎ কী নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করল, ফট করে দেখি আমাকে ঘুষি দেওয়া শুরু করছে। কীসের আমার উপর হামলা, আমি নিজের লোকদের তখন সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি। আমি অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে দিয়েছি। আমি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে ওদের পতন ঘটিয়ে মাঠ থেকে বিদায় হব।
“আমার গায়ে হাত দিয়েছে, রক্তাক্ত করেছে। (তখন তিনি নিজের নাকের রক্ত দেখান)। আমি কী করেছি? আমি একজন প্রার্থী। আমি তো তাদের মুরব্বি, আলেম মানুষ। আমার উপর আঘাত করতে হবে তাদের। অথচ আমি কিচ্ছু বললাম না।“
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। কে বা কারা এই হামলা করেছে; উনার দাঁত ফেটে রক্ত বেরিয়েছে। সব জায়গায় সিসি ক্যামেরা আছে, আমরা তাদের বের করে ফেলব।
“প্রার্থীর ওপর যেই হামলা করে থাকুক তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার করা হবে।“
হামলার অভিযোগ মৌখিকভাবে পেয়েছেন জানিয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি অভিযোগ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলেছি।
“এই হামলাটি কেন্দ্রের বাইরে হয়েছে; ফলে ভোটের এর কোনো প্রভাব পড়েনি।”