মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে ‘চাঁদা দাবি’, যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জামালপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 06:14 PM
Updated : 14 Sept 2022, 06:14 PM

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে দাবি করা চাঁদা না পেয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে বুধবার বিকালে পরিবারটি জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল হাশেম অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে তার ছেলে আলমগীর হোসেন পলিন ও জমিদাতা দলিল রেজিস্ট্রি করতে মেলান্দহের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যান। এ সময় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন বাঘা তার ছেলের পলিনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি করতে দেবে না বলে হুমকি দেন। এক পর্যায়ে যুবলীগের ওই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে পলিনের তর্কবিতর্ক হয়। পরে পলিন বাড়িতে চলে যান।

“ওইদিন বিকাল আনুমানিক ৫টার দিকে ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ও শাহীন বাঘা তাদের লোকজন নিয়ে পলিনের শ্যামপুর রোডের স্যানেটারি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানের মালামাল ভাঙচুর ও মূল্যবান স্যানেটারি সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।”

লুটকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করেন আবুল হাশেম।

সংবাদ সম্মেলনে আবুল হাশেমের ছেলে আলমগীর হোসেন পলিন অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্যানেটারি দোকানে যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ ও শাহীন বাঘাসহ তার লোকজন হামলা ও ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আমার পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে তারা আমার পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।”

“এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতেই মেলান্দহ থানায় আমি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযোগ দেওয়ার পর ওরা আমাদের নানাভাবে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা তাদের জান-মালের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইব্রাহীম খলিলুল্লাহ বলেন, “মঙ্গলবার আলমগীর হোসেন পলিন সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সামনে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন বাঘার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করে তাকে আহত করেন। পরে শাহীনের লোকজন অতিউৎসাহী হয়ে পলিনের দোকান ভাঙচুর করেছে বলে শুনেছি।”

চাঁদার চাওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন বাঘা বলেন, “আমি কোনো চাঁদা দাবি করিনি। উল্টো তারা আমাকে মারধর করেছে; আহত অবস্থায় হাসপাতালে আছি।”

মেলান্দহ থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দুপক্ষই অভিযোগ দিয়েছে; তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা হচ্ছে বলেও ওসি জানান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক