খাগড়াছড়িতে ঠাণ্ডাজনিত রোগ বাড়ছে, হাসপাতালে চাপ

রোববার দুপুর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Nov 2022, 10:08 AM
Updated : 13 Nov 2022, 10:08 AM

খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে; এতে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রাজেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, রোববার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। এ ওয়ার্ডে প্রতিদিন ২০/৩০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের বয়স দুই থেকে আট মাস।

এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে দুইশ রোগী। তাদের বেশিরভাগই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।

রাজেন্দ্র আরও বলেন, “পাহাড়ি এলাকায় অন্য এলাকা থেকে ঠাণ্ডা বেশি পড়ে। দুর্গম এলাকার মানুষজন চিকিৎসা নিতেও দেরি করে। তারা প্রথমে কমিউনিটি ক্লিনিকে যায়, তারপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। উপজেলা থেকে শিশুদের খারাপ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। ক্রিটিক্যাল রোগীদের আমরা চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেই। গত তিন দিনে সদর হাসপাতালে নিউমোনিয়া আক্রান্ত এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।”

রোববার সকালে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শিশু ওর্য়াডে ঘুরে দেখা যায়, সবকটি বেডে রোগী ভর্তি রয়েছে। বাড়তি চাপ সামাল দিতে বারান্দায় বেড বসানো হয়েছে। শয্যা না থাকায় কয়েকটি শিশুকে বারান্দার বেডে রাখা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের তবলছড়ি এলাকার ইয়াকুব আলীর আড়াই মাসের সন্তান শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি।

তিনি বলেন, “এলাকায় ডাক্তার দেখিয়েছি। ভালো না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। ওর্য়াডে বেড নেই। এখন বারান্দায় চিকিৎসা চলছে।”

ওই ওয়ার্ডেই খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন এলাকার নুরুনাহারের সন্তান ভর্তি। তিনি বলেন,”ঋতু পরিবর্তনের কারণে বাচ্চার ঠাণ্ডা লেগে গেছে। ভালোভাবেই ধরেছে।”

মাটিরাঙার গোমতি এলাকা থেকে আসা লিপি আক্তার বলেন, “আমার বাচ্চার বয়স তিন মাস। প্রথমে মাটিরাঙা হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্ত বাচ্চার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। শনিবার বিকাল ৫টায় এখানে আসছি। সারারাত বাচ্চাকে অক্সিজেন নিয়ে রেখেছে। এখান অনেকটা ভালো আছে।”

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রেকি চাকমা বলেন, “প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। রোগীদের সেবা দিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাই বেশি।”

শীতের সময় বাচ্চাদের বাড়তি যত্নের পরামর্শ দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ওমর ফারুক। ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।

ওমর ফারুক বলেন, “বাচ্চার যাতে ঠাণ্ডা না লাগে তা খেয়াল রাখতে হবে। একদিন পর পর কুসুম পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে। এছাড়া জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত বাচ্চাদের মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক