সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, বন্যপ্রাণী নিয়ে শঙ্কা

‘হরিণ, বাঘ ও শুকুরসহ কোনো প্রাণীর সদ্যপ্রসূত শাবক থাকলে সেগুলোর মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি।’

বাগেরহাট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 01:37 PM
Updated : 11 Sept 2022, 01:37 PM

বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে সুন্দরবনের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি উচ্চতায় উঠে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে; এতে শাবকসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছে বনবিভাগ।

সুন্দরবনের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। সাগরের কোলঘেঁষা পশুর, শিবসা, আড়পাঙাশিয়াসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানির উচ্চতা বেড়েছে চার থেকে পাঁচ ফুট।

“সুন্দরবনের দুবলা, কচিখালী, কটকা, নীলকমল এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পশুর নদের তীরে অবস্থিত করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। এখানে পানির উচ্চতা ছিল চার ফুট।”

সুন্দরবনের সব এলাকাতে কমবেশি বন্যপ্রাণীর বিচরণক্ষেত্র রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিচরণক্ষেত্র কটকা ও কচিখালীতে। এখানে হরিণ, বাঘ ও শুকুরের বড় আবাসস্থল। এসব প্রাণীর সদ্যপ্রসূত শাবক থাকলে সেগুলোর মৃত্যু ঝুঁকি অনেক বেশি। এইসব এলাকায় কোনো প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে কি-না তা আমরা এখনও জানতে পারিনি।”

জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দিন দিন পানির উচ্চতা বাড়ছে, এ পরিস্থিতি বনবিভাগকে ভাবিয়ে তুলেছে জানিয়ে এ বন সংরক্ষক বলেন, “সুন্দরবনের প্রাণীদের রক্ষা করতে সুন্দরবনের কম্পার্টমেন্টগুলোতে বড় বড় মাটির উঁচু ডিবি তৈরি করার পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। পানি বাড়লে যাতে প্রাণিকূল এসব মাটির উঁচু ডিবিতে আশ্রয় নিতে পারে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক