পদ্মা-যমুনার মোহনায় ধরা পড়ল ৩৩ কেজির বাঘাইড়, নিলামে বিক্রি
আইনানুসারে এই মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন কিংবা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
রাজবাড়ীর পদ্মা ও যমুনা নদীর মোহনায় জেলের জালে ৩৩ কেজি ওজনের একটি প্রজাতির বাঘাইড় মাছ ধরা পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের অদূরে জেলে সোনাই হালদারের জালে মাছটি ধরা পড়ে বলে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান।
জেলেরা জানান, দুপুরে সোনাই হালদার তার দল নিয়ে পদ্মায় মাছ ধরতে যান। নদীর একাধিক পয়েন্টে জাল ফেলে মাছ না পেয়ে অবশেষে পদ্মা-যমুনার মোহনায় জাল ফেলেন তারা।
পরে জাল গুটিয়ে তুলতেই বিশাল আকৃতির বাঘাইড়টি দেখতে পান তারা। মাছটি ডাঙায় তুলে দৌলতদিয়া মৎস্য আড়তে নিয়ে মেপে দেখা যায় সেটির ওজন ৩৩ কেজি।
মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা বলেন, “মাছটি আড়তে তোলা হলে আমি উন্মুক্ত নিলামে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে মোট ৫২ হাজার ৮০০ টাকায় কিনে নিই। পরে যোগাযোগ করে ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজি দরে ঢাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫৬ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করে দিই।”
বাংলাদেশে প্রচলিত বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বাঘাইড় একটি সংরক্ষিত ও মহাবিপন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী। আইনানুসারে এই মাছ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন কিংবা ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
আইন প্রয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়ালন্দ উপজেলা বন কর্মকর্তা খন্দকার আজিজুল ইসলাম বলেন, “বাঘাইড় মাছ নিধন বন্ধে আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। জেলেদের সচেতন করতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। তবে জনবল সংকট থাকার কারণে প্রতিনিয়ত কিংবা নিয়মিত অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”
