পাহাড়ি ঝিড়িতে ‘বিষ ছিটানোর’ প্রতিবাদে মানববন্ধন

কলাইয়া ঝিরির আগায় কীটনাশক ও বিষ ছিটানোর অভিযোগ লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে।

বান্দরবান প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Sept 2022, 04:20 PM
Updated : 13 Sept 2022, 04:20 PM

বান্দরবানের লামা সরই ইউনিয়নে একটি পাহাড়ি ঝিরিতে ‘বিষ’ ছিটানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে পাহাড়ের একটি সংগঠন।

মঙ্গলবার সকালে জেলা শহরের প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বান্দরবান পার্বত্য জেলার তরুণ সমাজ’-এর ব্যানারে এ মানববন্ধন হয়।

এতে জেলা শহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাহাড়ি শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ছাত্র সমাজের প্রতিনিধি অংসিংউ মারমার সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন থোয়াইঅং মারমা, উবাথোয়াই মারমা, বিটন তঞ্চঙ্গ্যা, সুরেজ ত্রিপুরা ও থোয়াই ক্যজাই চাক।

বক্তারা বলেন, পাহাড়ে বসবাস করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর পানির একমাত্র উৎসস্থল হলো পাহাড়ি ঝিরি-ঝর্ণা ও ছড়া। সম্প্রতি লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে একটি রাবার কোম্পানির লোকজন পরিকল্পিতভাবে কলাইয়া ঝিরি নামে একটি ঝিরির আগায় কীটনাশক ছিটিয়ে দেয়। এতে পুরো ঝিরির পানি বিষাক্ত ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে পাড়াবাসী এখন কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে গিয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর লামা সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেংয়েন ম্রো পাড়ার কলাইয়া ঝিরির আগায় কীটনাশক ও বিষ ছিটানোর অভিযোগ ওঠে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হলেও ঝিরিতে এখনও কীটনাশকের গন্ধ আছে। এ ছাড়া ঝিরির মাছ, কাঁকড়া ও চিংড়ি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। রেংয়েন ম্রো পাড়াবাসী খাবার পানি সংকটে পড়েছে।

সেখানে ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর জুমভূমি ও প্রাকৃতিক বন দখল করার উদ্দেশ্যে ঝিরির পানিতে কীটনাশক ও বিষ ঢেলে দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। যাতে পাড়াবাসীরা টিকতে না পেরে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য হয়।

এ বিষয়ে লামা রাবার ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের ম্যানেজার আরিফ বলেন, “কখন কারা বিষ ঢেলে দিয়েছে আমরা জানি না। ভয়ে আমাদের রাবার শ্রমিকরা তাদের পাড়ার কাছাকাছিও যায় না। যে ঝিরিতে বিষ ঢেলে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে অন্য শ্রমিকরাও যায়। অনেকেই কাঠ সংগ্রহ করতে যায়।”

মানববন্ধনে বক্তরা গত এপ্রিলে রাবার ও কাজু বাদামের চারা লাগানোর কথা বলে ওই রাবার কোম্পানির লোকজনের ম্রো ও ত্রিপুরাদের ৪০০ একর এলাকায় আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ করেন এবং ওই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক