Published : 11 Jan 2024, 06:09 PM
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগের মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওই যুবক ‘মূলত বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির মাধ্যমে সংসদ নির্বাচনকে বানচালের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে’ বিহারে আগুন দেয় বলে দাবি করেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
চেরাংঘাটার ‘উসাইচেন রাখাইন বৌদ্ধ বিহারে’ (বড় ক্যাং) অগ্নিসংযোগের ঘটনার চার দিন পর মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা এলাকা থেকে মো. আব্দুল ইয়াছির ওরফে শাহজাহানকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়।
ইয়াছির রামু উপজেলার ফতেখাঁরকূল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে। তার বাবা বিএনপির ফতেখাঁরকূল ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৫ জানুয়ারি রাত ২টায় ওই বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে বিহারটির উপরের মূল প্রবেশদ্বারের সিঁড়িটি পুড়ে যায়।
এ ঘটনায় ৭ জানুয়ারি বৌদ্ধ বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মংকিউ রাখাইন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।
সেই মামলায় ইয়াছিরকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার নিজের কার্যালয়ে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পুলিশ সুপার মাহফুজুল ইসলাম।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ৫ জানুয়ারি মধ্যরাতে বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগের অন্তত ২০-২৫ মিনিট আগে রামু ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে জনৈক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে করেন।

তিনি জানান, উপজেলা সদরের অন্তত ২০-৩০ কিলোমিটার দূরের ঈদগড় এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবরটি শোনার পর পরই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঈদগড় পৌঁছায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে তারা ফিরে আসেন।
পুলিশ সুপার বলেন, “একই সময়ে ওই ব্যক্তি রামু বিদ্যুৎ কার্যালয়ের মোবাইলে ফোন দেন। তখন তিনি জানান, চেরাংঘাটা এলাকায় আগুন লেগেছে, তাই সেখানকার বিদ্যুৎ সংযোগ যেন দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
“ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ফোন দিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয় মূলত তাদেরকে বিভ্রান্তি করার জন্য। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়। এরপরই বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ করা হয়।”
আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনার সময় ইয়াছির একাই ছিলেন। অগ্নিসংযোগের জন্য তিনি কিছু কাপড়ের টুকরা এবং বড় একটি বোতলে তরল দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করেছেন।
“ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোবাইল সিমটি এলাকার কচু ক্ষেতে ফেলে দিয়ে ইয়াছির চট্টগ্রামে আত্মগোপন করেছিলেন।”
তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে জানিয়ে পুলিশ সুপার মাহফুজুল বলেন, “ইয়াছিরের পরিবারের সবাই বিএনপি ঘরনার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইয়াছিরকে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। তার ফেইসবুক আইডিতেও বিএনপির প্রচার ও কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করা হয়েছে।”