ময়মনসিংহে ড্রামে লাশ: নারীসঙ্গ, ভিডিও-ব্ল্যাকমেইলিংসহ আরও যা বলল পুলিশ
২২ সেপ্টেম্বর রাতে ড্রামটি ইজিবাইকে করে বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার খালে ফেলে দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার একটি খালে ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই।
রোববার রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজার এলাকার একটি মার্কেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
গ্রেপ্তার শামীম মিয়া (৩৮) নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার কৃষ্টপুর এলাকার জালাল মিয়ার ছেলে।
পিবিআই জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার খালের পানির নিচে একটি ড্রাম থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা লাশটি নিরঞ্জন ধর (৫৪) বলে শনাক্ত করেন।
নিরঞ্জন পেশায় স্বর্ণের কারিগর ও অটোরিকশার মালিক ছিলেন। তার চারটি অটোরিকশা খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো। ওই গ্যারেজের ব্যবস্থাপক ছিলেন শামীম।
এ ঘটনায় নিরঞ্জনের স্ত্রী সবিতা রানী ধর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে শামীমকে শনাক্ত করে পিবিআই।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে নিরঞ্জনের সঙ্গে শামীমের পরিচয় ছিল। অটোরিকশা গ্যারেজে রাখার সুবাদে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। শামীমের বাসায় নারীদের নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত বলে তদন্তে পাওয়া গেছে।
“শামীমের নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতার একটি আপত্তিকর ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন নিরঞ্জন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আদায় করেন তিনি। পরিবারের কাছে ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে আরও টাকা দাবি করতেন নিরঞ্জন।”
পিবিআইয়ের দাবি, সীমিত আয়, পারিবারিক ব্যয় ও ঋণের চাপে থাকা শামীম এভাবে টাকা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। ২১ সেপ্টেম্বর নিরঞ্জন শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে বটি দিয়ে মাথার স্পর্শকাতর স্থানে একাধিক আঘাত করেন। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর নিরঞ্জনের লাশ চটের বস্তায় ভরে একটি ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ড্রামটি ইজিবাইকে করে বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার খালে ফেলে দেওয়া হয়।
শামীমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক হানিফ মিয়া ও শামীমের পরিবারের কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেপ্তার শামীমকে আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন:
