Published : 07 Feb 2023, 07:04 PM
বগুড়ার শিবগঞ্জে ধর্ষণ মামলার আসামি এক আওয়ামী লীগ নেতার পুরুষাঙ্গ কেটেছেন এক গৃহবধূ; পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান।
‘ফের ধর্ষণের চেষ্টা’ করায় ওই গৃহবধূ ব্লেড দিয়ে এই আওয়ামী লীগ নেতার ওপর হামলা চালান বলে গৃহবধূর স্বজনদের দাবি।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মনজুরুল ইসলাম জানান, সোমবার সন্ধ্যায় শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের মাদারগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার সকালে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওই গৃহবধূকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান তিনি।
নিহত এরশাদুল ইসলাম কিচক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
তার স্বজনদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে ডেকে নিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ওসি মনজুরুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এই গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ ওঠে এরশাদুলের নামে। তখন থানায় মামলা হলে এরশাদুল গ্রেপ্তার হন। সম্প্রতি তিনি জামিনে বের হন।
আটক গৃহবধূর স্বামী সাংবাদিকদের বলেন, এরশাদুল জামিনে বের হয়ে আবার তার স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। সোমবার সন্ধ্যায় তিনি বাজারে গেলে এরশাদুল তাদের বাড়ি গিয়ে আবার তার স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন।
“এ সময় আমার স্ত্রী ব্লেড দিয়ে এরশাদের পুরুষাঙ্গ কেটে দেয়। পরে পুলিশ এসে আমার স্ত্রীকে আটক করে নিয়ে গেছে।”
ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আনিসুর রহমান চিকিৎসকের বরাতে জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা গেছেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ওই গৃহবধূকে আটক করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এরশাদুলের ভাই বাদী হয়ে মামলা করবে বলে জানিয়েছেন।
কিচক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশারফ হোসেন এরশাদুলের রাজনৈতিক পদ নিশ্চিত করেছেন।
নিহতের ভাই শাহীন মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। ওই মহিলার বাসায় যদি গিয়ে থাকে তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার হাতের কাছে ব্লেড কীভাবে ছিল? তাকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজটি করা হয়েছে।