সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাবির জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি
হামলার ঘটনার ক্যামেরার ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল আন্দোলনকারীদের।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবর রহমানকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একই সঙ্গে হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিকে আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সোমবার রাত দেড়টার দিকে আন্দোলনরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম এসব সিদ্ধান্ত জানান।
উপাচার্য বলেন, “আমরা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট পাব, এটাই আশা। এরপর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী যে শাস্তির বিধান আছে, তা নিশ্চিত করা হবে।
“এরপর পরবর্তী তদন্তের জন্য সিন্ডিকেট সভা ডেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, সেটার ওপর আস্থা রাখুন।”
এর আগে রোববার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ হামলায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত দশজন আহত হন।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন- বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ উজ জামান কোরবান, দৈনিক আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা।
এক পর্যায়ে তারা প্রশাসন ভবনে তালা দিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যান এবং উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
আন্দোলনকারীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা করে সোমবারের মধ্যে গ্রেপ্তার, হামলায় জড়িতদের সাময়িক বহিষ্কার এবং তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে শুক্রবারের মধ্যে জরুরি সিন্ডিকেট সভা ডেকে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার।
এ ছাড়া যাদের ছাত্রত্ব নেই তাদের সনদ বাতিল করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ, হামলার ঘটনায় ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সময় উপস্থিত থেকেও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগে প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরদের পদত্যাগের দাবিও করেন তারা।
পরে সোমবার রাত ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ছয় দফা দাবি নিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আলোচনা হয়।
পরে রাত সোয়া ১টার দিকে উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো সকলের সামনে উপস্থাপন করেন।
সভায় উপচার্য বলেন, “তদন্তে দোষী হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের প্রাথমিকভাবে বহিষ্কার করা হবে এবং তাদের নাম উল্লেখ করে মামলায় চার্জশিট দেওয়া হবে। এছাড়া ঘটনার পেছনে ইন্ধন ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
হামলার ঘটনায় ক্যামেরার ফুটেজ ডিলিট করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হল প্রাধ্যক্ষ স্যার আমাকে বলেছেন, তিনি ফুটেজ ডিলেট করেননি। আমি জানিনা কোনটা সত্য।
“তবে আপনারা শিক্ষার্থীরা যেহেতু তার অব্যাহতির দাবিতে অনড়, তাই আমরা তাকে সাময়িক প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।”
সভা শেষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মীর কাদির সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ছয়টি দাবি জানিয়েছিলাম। প্রশাসন এর মধ্যে একটি দাবি এরইমধ্যে পূরণ করেছে এবং বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য তিন দিন সময় নিয়েছে।”
তিনি বলেন, “বাকি পাঁচটি দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা প্রশাসনকে তিন দিন সময় দিয়েছি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংবাদ এই তিন দিন সাংবাদিকরা কভার করবেন না।
“নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
