কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও স্কুলশিক্ষককে হত্যায় চারজনের যাবজ্জীবন

২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ভেড়ামারা রেলবাজার মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 02:13 PM
Updated : 24 July 2022, 02:13 PM

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় ব্রাশফায়ারে আওয়ামী লীগ নেতা মেহেরুল ইসলাম এবং স্কুলশিক্ষক বান্দা ফাত্তাহ মোহনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার এক যুগ পর চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

রোববার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ অতিরিক্ত আদালত-১ এর বিচারক মো. তাজুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে এই জোড়া খুনের রায় ঘোষণা করেন বলে কুষ্টিয়া আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অনুপ কুমার নন্দী জানান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা মো. তারিক প্রামাণিক (৪২), কামাল রেজা নিপু (৫২), সিরাজুল ইসলাম মাসুদ (৪২) এবং রায়হান আলী (৪৭)।

মামলার বরাত দিয়ে আইনজীবী জানান, ২০০৯ সালের ১৫ আগস্ট রাত সোয়া ৯টায় ভেড়ামারা রেলবাজার মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটে উপজেলার আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কাপড় ব্যবসায়ী মেহেরুল ইসলাম (৫০) নিজের দোকানের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে স্কুলশিক্ষক বান্দা ফাত্তাহ মোহন (৫৫) ছাড়াও পাঁচ থেকে ছয়জন ছিলেন।

হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে আট থেকে নয় দুর্বৃত্ত এসে গুলিবর্ষণ শুরু করে এবং ১০টি গুলি করে পালিয়ে যায়। সেখানে মোট ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়। আহতদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক স্কুল শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিসার জন্যে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান মেহেরুল।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হতাহতদের পরিবার মামলা করতে রাজি হয়নি। দুদিন পরে ১৭ আগস্ট ভেড়ামারা থানার এসআই শেখ আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্র আইনে মামলা করেন।

ভেড়ামারা থানার পরিদর্শক আজম খান তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ২১ জুলাই ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আইনজীবী আরও বলেন, আদালত রায়ে চারজনের যাবজ্জীবন ছাড়াও প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন। অপর ১১ আসামিকে খালাস দিয়েছেন। আর একজন আসামি সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের সিদ্দিকুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী সুধীর কুমার শর্মা বলেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক