Published : 18 Jun 2023, 06:20 PM
বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজের আবাসিক হল থেকে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থী মাইনুল ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকাল ১১টায় কলেজের জিরো পয়েন্টে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল কলেজ প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভের আয়োজক সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট নেতা বিজন সিকদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিষয়টি আত্মহত্যা বলে সকলে বলছে। কিন্তু এটা আত্মহত্যা হতে পারে না।”
মাইনুলকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তার যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “মাইনুলের মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তার একটি চোখ উপড়ানো ছিল। গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত থাকলেও তার হাঁটু মেঝেতে ছিল। যে আড়ার সঙ্গে ঝুলানো ছিল, সেটিও ভাঙা। “
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সমাবেশে বক্তব্য দেন ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সুজন, বিজন সিকদার, সাদমান খান, অমি মিয়া, কানিজ ফাতিমা, সাইফুল ইসলাম।
শনিবার দুপুরে কলেজের ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক (মুসলিম) ছাত্রবাসের পরিত্যক্ত একটি কক্ষ থেকে সমাজকর্ম বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাইনুলের অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মুসলিম হলের ১৩৪ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র মাইনুল বরিশালের হিজলা উপজেলার বাউশিয়া এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে।
সহপাঠীদের বরাতে কলেজের অধ্যক্ষ কিবরিয়া জানিয়েছিলেন, গত ১৫ জুন সন্ধ্যার পর হলের কক্ষ থেকে বের হয়েছিলেন মাইনুল। এরপর তিনি আর কক্ষে ফিরেননি। শনিবার হলের ১৪১ নম্বর পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার পর অর্ধগলিত মাইনুলের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়।
রিকশাচালক হত্যায় দুজন গ্রেপ্তার

বরিশাল সদর উপজেলায় রিকশাচালক হাসানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দু্জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার বেলা ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন র্যাব-৮ এর ১ নম্বর সিপিএসসি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম।
গ্রেপ্তাররা হলেন- পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা চর বিশ্বাস এলাকার রুবেল হাওলাদার (৩৫) এবং বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকার মামুন তালুকদার (৩৬)।
কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে হাসান তার বোনকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছিলেন, দুই যাত্রী নিয়ে নগরীর বাংলাবাজার থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে ভোলা রোডে যাচ্ছেন। রাত আড়াইটার দিকে তার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান তার বোন।
হাসানকে খুঁজে না পেয়ে ১৭ জুন কাউনিয়া থানায় জিডি করা হয়। ওইদিন বিকালে চরআইচা ভোলা রোডের পাশে সোহরাব ডাক্তারের পুকুরে একটি মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার এবং পরে হাসানের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় হাসানের বোন বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।
জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, এরপর মামুন ও রুবেলকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। সেই সঙ্গে নিহতের ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত রিকশা, হত্যার কাজে ব্যবহৃত রশি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “হাসান রিকশাটি কেনার পর থেকেই তাকে ফাঁদে ফেলানোর চেষ্টা করা হয়। বৃহস্পতিবার রিকশাসহ হাসানকে ভোলা রোডে নিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে ডোবায় ফেলে দেন আসামিরা। আর রিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান।”
তিনি বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে এ দুজন জড়িত রয়েছে, বাকি বিষয়গুলো পুলিশ তদন্ত করে দেখবে।”
এ ছাড়া আলামতসহ মামুন ও রুবেলকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের এই কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন