১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে ভারি বৃষ্টিতে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে আতঙ্ক

নদ-নদীর পানি বাড়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন আতঙ্ক।

কুড়িগ্রামে ভারি বৃষ্টিতে একদিকে স্বস্তি, অন্যদিকে আতঙ্ক

দীঘদিন পর বৃহস্পতিবার স্বস্তির বৃষ্টি হলেও কুড়িগ্রাম শহরের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় ভোগান্তির শিকার হয় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Sep 2026, 07:25 PM

Updated : 17 Sep 2026, 07:25 PM

কুড়িগ্রামে দীর্ঘদিন পর ভারি বৃষ্টিতে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

একই সঙ্গে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে বাড়ায় নদীভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বৃষ্টির পাশাপাশি তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার প্রধান চার নদ-নদীর পানি ধীরগতিতে বাড়ছে। নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকলেও কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বাড়ার কারণে রাজারহাট উপজেলার তিস্তার চর গতিয়াশাম ও চর খিতাবখাসহ কয়েকটি চরের আমন খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সদর, উলিপুর, ভূরুঙ্গামারী ও চিলমারী উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলার প্রায় ২০টি পয়েন্টে কম-বেশি ভাঙন চলছে। এর মধ্যে ৩-৪টি পয়েন্টকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে জরুরি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

এদিকে হঠাৎ বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম শহরের বিভিন্ন সরকারি অফিস চত্বর ও মূল সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর, জেলা জজ আদালত, পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতগামী সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে হাঁটু পানি ভেঙে দুর্ভোগ নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা গেছে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে।

তবে এই বৃষ্টিকে আমন ধানের জন্য অত্যন্ত আশীর্বাদ হিসেবে দেখছে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মেহেদী হাসান বলেন, কৃষকের বহুল প্রত্যাশিত এই বৃষ্টির ফলে জমিতে দেওয়া সার দ্রুত কার্যকর হবে, যা আমন ধানের বাম্পার ফলনে বড় ভূমিকা রাখবে।