নড়িয়ায় পদ্মার তীর রক্ষা বাঁধে প্রায় ৫০ মিটার ফাটল, আতঙ্ক
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, “সার্ভের রির্পোট এখনো ঢাকা থেকে আসেনি। তবে আমরা আপদকালীন জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করছি।”
শরীয়তপুরের নড়িয়ার শুরেশ্বর মাছ ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধে প্রায় ৫০ মিটার এলাকায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) আপদকালীন জিও ব্যাগ ও বালি ফেললেও বাঁধ ধসে পড়ার শঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা।
বুধবার ভোরে স্থানীয়রা বাঁধে এ ফাটল দেখতে পায়, পরে পাউবো কর্মকর্তারা বাঁধের ফাটল দেখা দেওয়া বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজল পারভেজ।
২০১৯ সালে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১১ কিলোমিটার পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা এ বাঁধটি নির্মাণ করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।
দুদিন ধরে বাঁধে ফাটলের অংশটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকায় ঘরিসার টিঅ্যান্ডটি মোড়, হালই সার, নন্দনসার ও পাচ গাঁওসহ প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
শুরেশ্বর মাছ ঘাটের দোকান পাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে পড়ায় কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকানপাটের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বেপারী, সুমন শেখ, আবু তাহের।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদ বেপারী বলেন, “যে কোনো মুহূর্তে অংশটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা চাই পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত পদক্ষেপ নিক।”
নন্দনসারের বাসিন্দা ফজলুল হক বলেন, “নদীর পানির স্রোত তীরের কাছাকাছি হওয়ায় নিচ দিয়ে মাটি সরে গেছে। এখনই ব্লক না ফেলা হলে পুরো বাঁধটি ভেঙে যাবে।”
স্থানীয়দের দাবি, নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত বালু কেটে নেওয়ার ফলে এ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। ফাটলের কারণ ও ঝুঁকির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকানো এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সজল পারভেজ বলেন, “কেন ফাটল তৈরি হয়েছে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সার্ভে করা হয়েছে। সার্ভের রির্পোট এখনো ঢাকা থেকে আসেনি। তবে আমরা আপদকালীন জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করছি।”
