২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

টানা বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা

এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

টানা বৃষ্টিতে ডুবল ব্যাংকক, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা

ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত থাইল্যান্ডের ব্যাংককে শনিবার ঠেলে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন লোকজন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 03:31 PM

Updated : 26 Sep 2026, 03:39 PM

টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বেশিরভাগ সড়ক তলিয়ে যাওয়ার পর শহরটিতে জরুরি বন্যা দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে শহরের খালগুলোর আশপাশে বসবাসকারীদের ঘরের মালামাল দ্রুত উপরের তলায় সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

বিবিসি লিখেছে, বছরের এ সময়ে থাইল্যান্ডে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত সাধারণ ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ব্যাংককের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে দিয়েছে। যানজটের জন্য পরিচিত শহরটির প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

রোববার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। এতে শহরের খালগুলোর পানি উপচে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Image

ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত ব্যাংককে শনিবার কোমরসমান পানির মধ্যে হেঁটে যাচ্ছেন মানুষ। ছবি: রয়টার্স

মধ্য ব্যাংককের উত্তরে এক খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সি সোমকিদ ফিউক-নগাম বলেন, “পানি আসতেই আছে। এখন বাইরে যাওয়া কঠিন। এখন তো পানি কোমর পর্যন্ত উঠে গেছে।”

তিনি বলেন, “আমি কোথাও যেতে পারছি না। দুই দিন ধরে আমার দোকান বন্ধ রেখেছি।”

ফিউক-নগামের ভাষ্য, ২০১১ সালে দেশজুড়ে বন্যার সময় ব্যাংককে যে পরিস্থিতি হয়েছিল, এবার শহরের পানির উচ্চতা তার চেয়েও খারাপ বলে মনে হচ্ছে।

Image

ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত ব্যাংককের রাস্তায় ভেলায় চড়ে যাচ্ছেন একজন। ছবি: রয়টার্স

২০১১ সালে চরম আবহাওয়াজনিত সেই দুর্যোগ তিন মাস ধরে চলেছিল। তখন পুরো থাইল্যান্ডে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়। তবে এবারের বন্যায় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

থাই আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে আরও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের বৃষ্টির জন্য দায়ী নিম্নচাপটি মধ্য থাইল্যান্ডের দিকে সরে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Image

ভারি বৃষ্টিতে প্লাবিত রাস্তায় শনিবার হেঁটে খাবার নিয়ে যাচ্ছেন মানুষ। ছবি: রয়টার্স

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “বৃষ্টি ঝরেই যাচ্ছে এবং আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা পাম্প করে পানি সরানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু খালগুলোর পানি পূর্ণ হয়ে গেছে...

“খালের পাশে যারা থাকেন, তারাই এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।”