০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে সেবা গ্রহীতাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে গিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করতে গেলে মারধরের ঘটনা ঘটে।

কুমিল্লায় নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে সেবা গ্রহীতাকে মারধর, ভিডিও ভাইরাল

ছবি ভিডিও থেকে নেওয়া।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 06:01 PM

Updated : 04 Nov 2026, 06:01 PM

কুমিল্লায় জেলা নির্বাচন অফিসে এক কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সেবা গ্রহীতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আজিজুল ইসলাম।

তবে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “সেখানে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া কিছুই হয়নি।”

মারধরের শিকার সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম রবিন বোন মোসা. সুমাইয়া আক্তার স্বপ্না নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করেন। এদিন সকালে তিনি শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে সেখানে যান।

রবিউল বলেন, তার বোনকে নতুন ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করতে এসে বারবার হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি। অভিযোগ করতে গেলে মারধরের শিকার হন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি মানলাম, আমার সব কাজে ভুল আছে। কিন্তু কি কি ভুল আছে তারা সব আমাকে একসাথে বলেনি। এক একদিন গেলে পরে এক একটি ভুলের কথা বলে।

“আমার বোন গেলে, তাকে দাঁড় করিয়ে রাখে। আমি তাদেরকে বারবার অনুরোধ করেছি, সব ভুল একসাথে বলেন, সব একসাথে ঠিক করে আনব।”

এদিন সকালে রবিউল যখন তার বোনকে নিয়ে নির্বাচন অফিসে যান, তখন কর্মকর্তারা তাকে আবারও একটি ভুল ধরিয়ে দেন।

“এ নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে গেলে, ওই অফিসের কয়েকজন লোক আমাকে ধরে রুমে ঢুকিয়ে মারধর করেন। এ সময় আরও অনেক মানুষ সেখানে ছিল এবং সিসি টিভিতেও ফুটেজ আছে,” বলেন তিনি।

ঘটনার সময় সেখানে সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম ছিলেন বলে দাবি ভুক্তভোগী রবিউলের।

ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্তত চার থেকে পাঁচজন রবিউলকে কিল-ঘুষি মারছেন। খবর পেয়ে সেখানে যান কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ সংগঠনের সদস্যসচিব নাসির উদ্দিন। পরে এক ভিডিওতে পুরো ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

ভিডিওতে অন্তত দুইজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, যে কারণেই হোক কোনো, সেবা গ্রহীতাকে কেউ এভাবে রুমের ভেতরে ঢুকিয়ে মারধর করতে পারে না। এটা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে অন্যদেরকেও হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে নির্বাচন কর্মকর্তা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, রবিউল নিজেই পরিস্থিতি উত্ত্যপ্ত করেন। তারপরও অফিসের কর্মচারীরা যেটি ঘটেছে, সেটি পরিস্থিতির মুখেই হয়েছে।

“আমরা আবেদনকারীর বাবার ওয়ারিশ সনদ, জন্ম সনদসহ বিভিন্ন কাগজপত্র অনুসন্ধান করে অন্তত তিনটি জায়গায় অসামঞ্জস্য পেয়েছি। তাকে সেগুলো ঠিক করে আনতে বলেছি। তিনি সেটি ঠিক না করে বরং আমাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেছেন। তিনি সেটি ঠিক করেননি,” বলেন তিনি।

ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হয়েছে জানিয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বলেন, সেবা গ্রহীতাকে মারধরের বিষয়টি যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি অভিযোগকারীও সঠিক আচরণ করেননি।

এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনে কার দায় সেটি খুঁজতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।