Published : 04 Nov 2023, 12:25 AM
ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে চষে বেড়াচ্ছে জেলেরা। তবে ইলিশ নয়, জালে উঠছে পাঙ্গাস। একেকটির ওজন আবার ১০ থেকে ১৫ কেজি। তাই জেলেদের মুখে চওড়া হাসি।
বড় আকারের একটি পাঙ্গাসই বিক্রি করা যাচ্ছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা।
শুক্রবার মধ্য রাত থেকে জেলেরা নদীতে নেমেছেন। সকাল ৭টা থেকেই তারা আড়তে মাছ নিয়ে আসতে থাকেন।
সকালে চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা মাছঘাটে গিয়ে দেখা গেল বেশিরভাগ আড়তেই বড় আকারের পাঙ্গাস। ইলিশ থাকলেও আকারে ছোট।
বড় আকারের কিছু ইলিশ উঠেছে, তবে ডিম ছেড়ে দেওয়ায় ওজন এখন কম। তবে অনেক ছোট ইলিশের পেটে ডিম দেখা যাচ্ছে।
আড়তগুলোতে চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মাছের আকার পরীক্ষা করতে দেখা গেছে।
সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে হরিণা ফেরিঘাটের এই মৎস্য আড়ৎ ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ছিল। রাত ১২টার পর থেকে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ কেনাবেচা শুরু হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
মৎস্য ব্যবসায়ী সেরাজুল শেখ জানান, ভোর থেকেই জেলেরা আড়তে বেশিরভাগ পাঙ্গাস মাছ নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ এনেছেন বাগাড়সহ অন্যান্য মাছ।
আইড় ও পাঙ্গাসের দাম প্রায় একই রকম। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৭০০ থেকে ৮০০টাকা।

ছোট নৌকা নিয়ে ভোর ৪টায় নদীতে নামেন উত্তর হরিণা গ্রামের মো. শরীফসহ আরো তিন জন। সকাল ৮টায় ঘাটে আসেন ইলিশ বিক্রি করতে।
তিনি হালি ইলিশ তারা বিক্রি করেন ১ হাজার ৪০০ টাকায়। জানান, তাদের জ্বালানি খরচ হয়েছে প্রায় ৭০০ টাকা। দুপুরের পর আবার নামবেন, বলেন এমন কথাও।
চাঁদপুর সদরের হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া গ্রামের আল-আমিন জানান, মধ্যরাতে তারা মেঘনায় নামেন। প্রতি নৌকায় জেলে থাকেন কমপক্ষে ১০ জন। একবার নদীতে নামলে খরচ হয় প্রায় তিন হাজার টাকা।
তিনি জানান, ইলিশ খুবই কম পাওয়া গেছে। তবে পাঙ্গাসের কারণেই নদীতে নেমেছেন।
জহির রাঢ়ী বলেন, “ভাগ্য ভালো হলে ইলিশ, পাঙ্গাস সবই পাওয়া যায়। মধ্য রাতে নেমেছি। আবার দুপুরের পরে নামব।”
প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম সৈয়াল জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশ সেখানে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার চারশ থেকে দেড় হাজার টাকায়।
ছোট আকারের ইলিশের হালি ৫০০ থেকে ৫৫০টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ খুবই কম।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, “এবার ইলিশ কী পরিমাণ ডিম ছেড়েছে তা গবেষণার তথ্য বের হলে জানা যাবে।”
ইলিশ মাছ ১২ মাসই ডিম ছাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন, “ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য গত ২২ দিন সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।”