২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

১৭ বছর বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারি না: তাহেরের মেয়ে

“এই ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে সত্যের জয় হল; ১৭ বছর পরে হলেও শাস্তি কার্যকর হল।”

১৭ বছর বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারি না: তাহেরের মেয়ে

অধ্যাপক তাহেরের মেয়ে শেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ, স্ত্রী সুলতানা আহমেদ ও ছেলে সানজিদ আলভি আহমেদ (বাম থেকে)

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Jul 2023, 11:28 PM

Updated : 28 Jul 2023, 12:18 AM

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের আহমেদের দুই খুনির ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মেয়ে শেগুফতা তাবাসসুম আহমেদ।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের একই মঞ্চে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় আসামি মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলমের।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেগুফতা আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই ফাঁসি কার্যকরের মাধ্যমে সত্যের জয় হল। ১৭ বছর পরে হলেও শাস্তি কার্যকর হল। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

“তবে কৃতজ্ঞতা শব্দটি অতি ক্ষুদ্র হয়ে যায় তাদের প্রতি, যারা আমাদের পরিবারকে গত ১৭ বছর কোনো না কোনোভাবে সহযোগিতা করেছেন।”

আইন ও বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেগুফতা বলেন, “১৭ বছর বাবাকে বাবা বলে ডাকতে পারি না আমরা, ভাই আর আমি। সে এক নিদারুণ কষ্ট।”

পুরানো খবর:

অধ্যাপক তাহেরের দুই খুনি ফাঁসিতে ঝুলল

২০০৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পশ্চিমপাড়া আবাসিক কোয়ার্টার থেকে অধ্যাপক তাহের নিখোঁজ হন। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন।

দুই আসামির মধ্যে জাহাঙ্গীর ছিলেন অধ্যাপক তাহেরের বাড়ির কেয়ারটেকার। আর মহিউদ্দিন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে তাহেরের সহকর্মী।   

গবেষণা জালিয়াতির কারণে মহিউদ্দিনের পদোন্নতি আটকে দিয়েছিলেন তাহের। সেই ক্ষোভে মহিউদ্দিনের পরিকল্পনায় ২০০৬ সালে তাহেরকে হত্যা করে লাশ ম্যানহোলে ফেলে দেওয়া হয়। 

শেগুফতা তখন রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ছিলেন। আইন পেশায় যোগ দেওয়ার পর তিনিই এ মামলার দেখাশোনা এবং রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন।


গত বছরের ৫ এপ্রিল দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। মূলত সেসময়ই মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁসিকাষ্ঠ নিশ্চিত হয়ে যায়।

চূড়ান্ত সেই রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক তাহেরের স্ত্রী সুলতানা আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছিন, “এর জন্য অনেক সংগ্রাম করেছি। অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগ করেছি। রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায় কার্যকর হলে পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হব।”

আরও পড়ুন:

পুরানো খবর:

অধ্যাপক তাহেরের দুই খুনি ফাঁসিতে ঝুলল

পুরানো খবর:

রিভিউ খারিজ: অধ্যাপক তাহেরের দুই খুনিকে যেতে হবে ফাঁসিকাষ্ঠে