গোপালগঞ্জে মধুমতীর ভাঙনে ১৮ বসতবাড়ি বিলীন

আপাতত ১০ হাজার বালুর বস্তা ফেলে নদী ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 11:14 AM
Updated : 14 Sept 2022, 11:14 AM

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় গত এক সপ্তাহে মধুমতী নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙনে ১৮টি বসতবাড়ি বিলীন হয়েছে। সেই সঙ্গে গাছপালা, ফসলি জমি হারিয়ে যাচ্ছে নদীতে। 

উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের ডুবশী মোল্লাপাড়া এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে এ ভাঙন শুরু হয়েছে। 

জালালাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান এফ এম মারুফ রেজা বলেন, “আমার ইউনিয়নে ইছাখালী, ডুবশী ও ধলইতলায় মধুমতী নদীতে ভাঙন রয়েছে। গত সপ্তাহে ইছাখালী গ্রামের ডুবশী মোল্লাপাড়া এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে ১৮টি পরিবার বসতঘর হারিয়েছেন। অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০ হাজার বালুর বস্তা ফেলে নদী ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি পরিবারের প্রত্যেককে নগদ ১৪ হাজার টাকা, ৩০ কেজি চাল ও ২৪টি ঢেউটিন বিতরণ করেছে। 

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ লুৎফার রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দীন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরুন্নাহার ইউসুফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

ভাঙনের শিকার ডুবশী মোল্লাপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাজী আব্দুল কাফি মোল্লা (৭২) বলেন, “আমার ওয়ালসেট টিনের বড় বসতঘর, ১০ বিঘা জমি, শ্যালো মেশিন নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে আমাদের অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আমাদের সহায়তা ও সান্ত্বনা দিয়েছেন। তিনি নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন।” 

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা নদী ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে এসে বলেন, “আপাতত নদী ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে দেওয়া হবে।” 

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়জুর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে জরুরি কাজের অংশ হিসেবে আমরা ১০ হাজার বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নিয়েছি। এরই মধ্যে ব্যাগে বালু ভরার কাজ শেষ হয়েছে। আজকালের মধ্যে এগুলো গণনা করে নদীতে ফেলা হবে।” 

স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক