কুষ্টিয়ায় স্বামীকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে

নিহতের ভাইয়ের দাবি, দ্বিতীয় স্ত্রীর আগের স্বামীর সঙ্গে ঝামেলার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Oct 2022, 08:59 AM
Updated : 3 Oct 2022, 08:59 AM

কুষ্টিয়া শহরের এক ব্যক্তিকে গলাকেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

সোমবার সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বিব নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে তার স্ত্রী রোজিনা খাতুন পলাতক বলে পরিবারের লোকজন জানিয়েছে।

শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার রমজান আলির ছেলে সাব্বিরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

সাব্বিরের স্ত্রী রোজিনা (২৫) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উত্তর লাহিনীপাড়া গ্রামের শামসুলে মেয়ে।

সাব্বিরের চাচাতো ভাই তামিম বলেন, বনিবনা না হওয়ায় তার ভাইয়ের প্রথম স্ত্রী ঢাকায় চলে যায়। এক মাস আগে সাব্বির রোজিনাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। রোববার সন্ধ্যায় রোজিনাকে নিয়ে শহরে ঘুরতে বের হয় সাব্বির। বাড়ি ফিরে রাতে তারা একই ঘরে ঘুমাতে যায়।

“রাত ৩টার দিকে সাব্বিরকে ছুরি দিয়ে গলাকেটে পালিয়ে যায় রোজিনা। আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দ্রুত সাব্বিরকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।”

সাব্বিরের ভাই শামীম হোসেন বলেন, দাম্পত্য কলহের কারণে সাব্বিরের প্রথম স্ত্রী রাগ করে ঢাকায় তার বাপের বাড়ি চলে যায়। এরপর গত মাসের প্রথম দিকে রোজিনাকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে সাব্বির।

“এ ঘটনায় রোজিনার আগের স্বামী পশ্চিম মজমপুর গ্রামের বাসিন্দা আতাইয়ের সঙ্গে সাব্বিরের ঝামেলা চলছিলো।”

এর জেরেই সাব্বিরকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি শামীমের।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন জানান, দুইদিন আগে সাব্বির তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা খাতুন নিখোঁজ হয়েছে জানিয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলো। পরে রোববার স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে থানায় এসে উভয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাহার করে মুচলেকা দিয়ে চলে যায়।

সাব্বিরকে বাড়িতে গলাকেটে হত্যার খবর পেয়ে সকালে পুলিশ গিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রথমিক ধারণা এ পুলিশ কর্মকর্তার।

তিনি বলেন, ঘটনাটি তদন্ত এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক