Published : 08 Aug 2023, 12:08 PM
টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পানিবন্দি বান্দরবানে দুর্ভোগ দীর্ঘয়িত হচ্ছে। কিছু কিছু জায়গায় পাহাড় ধসের কারণে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় একপ্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে এই পার্বত্য জেলা।
বান্দরবানের বেশির ভাগ এলাকা টানা দুদিন ধরে বিদ্যুৎহীন। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলায় দুই শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তাসলিমা সিদ্দিকা।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪৬টি, লামায় ৫৫টি, নাইক্ষ্যংছড়িতে ৪৫টি, রুমায় ২১টি, রোয়াংছড়িতে ১৯টি, আলীকদমে ১৫টি, থানচিতে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
তবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে কত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন তা জানাতে পারেননি তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার বান্দরবানে ২৮৬ মিলিমিটার এবং সোমবার ২৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলের পানিতে ফুলে-ফেঁপে উঠেছে জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু ও মাতামুহুরী।

জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে, বন্যা পরিস্থিতিতে তলিয়ে গেছে হাজারো ঘরবাড়ি। পানিবন্দি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে।
সোশাল মিডিয়ায় আসা ছবিতে দেখা গেছে, জেলা শহরের অনেক ভবনের প্রায় এক তলা পানিতে ডুবে আছে। পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে হাঁটু পানি।
বান্দরবান পৌরসভার কালাঘাটা গোধার পাড় এলাকায় সোমবার দুপুরে পাহাড় ধসে মা-মেয়ের মৃত্যুর খবর শোনা গেলেও যোগাযোগ বিপর্যস্ত থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এর সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট আহসানুল হক লিটন বান্দরবান শহরের পরিস্থিতি জানিয়েছেন ফেইসবুকে।
তিনি লিখেছেন, বান্দরবান বাজারে দোকান গুলোতে পানি ঢুকেছে। বালাঘাটা, লেমুঝিড়ি, মুসলিম পাড়া, ভরাখালী, পুল পাড়া নিচে, আর্মি পাড়া, ইসলামপুর, বান্দরবান বাস স্টেশন পানিতে ডুবে গেছে।
“আমার বাড়ির নিচ তলায় পানি কোমর সমান, সবাই দ্বিতীয় তলায় আছে। বান্দরবানের জন্য সবাই দোয়া করবেন।”
লামার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তফা জাবেদ কায়সার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে সময় যত গড়াচ্ছে, পরিস্থিতি ততই খারাপ হচ্ছে।

“লামায় এরই মধ্যে ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু নিচু এলাকায় স্রোতের কারণে মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আলীকদম-লামা হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়া পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। ফলে ওইসব এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।