Published : 28 Oct 2022, 06:50 PM
রংপুরে বিএনপির লোকেরা পায়ে পা দিয়ে উস্কানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। একইসঙ্গে বিএনপি কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রংপুর মহানগরীর বেতপট্টিতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে রংপুরে আওয়ামী লীগ নেতাদের লাগানো বিলবোর্ডের ওপর বিএনপি তাদের গণসমাবেশের বিলবোর্ড লাগিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে সাফিউর রহমান সফি বলেন, “আমরা চাই বিএনপির গণসমাবেশ শান্তিপূর্ণ হোক। কিন্তু বিএনপির লোকেরা পায়ে পা দিয়ে উস্কানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এমন করলে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
“আমরা খেয়াল করছি, নগরীর বিভিন্ন মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা সম্বলিত আওয়ামী লীগের লাগানো বিলবোর্ডের ওপরে বিএনপির নেতারা তাদের গণসমাবেশের বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত কাজ। এটা মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি বলেন, “এভাবে বিলবোর্ড লাগানোর মাধ্যমে বিএনপি আমাদের উস্কানি দিচ্ছে। আমরা চাই না রংপুরে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হোক। বরং আমরা বিএনপিকে তাদের গণসমাবেশ সফল করতে সহযোগিতা করতে চাই। এজন্য রংপুরে আওয়ামী লীগ কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি।”
বিলবোর্ডের বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতের মধ্যে আমাদের বিলবোর্ডের ওপর লাগানো বিলবোর্ডগুলো সরিয়ে নেওয়া না হলে আমরা নিজেরাই সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হব।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রংপুরে যদি তারা বিশৃঙ্খলা করে তাদেরকে মোকাবিলা করতে শনিবার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, মহিলা লীগসহ সবাই রাজপথে থাকবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নওশাদ রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবেল, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম রাহেল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদ আরমান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি সাফিউর রহমান স্বাধীন।
এদিকে আওয়ামী লীগের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বিডিনিউজ টোযেন্টিপোর ডটকমকে বলেন, “আমরা কারও বিলবোর্ডের ওপর বিলবোর্ড লাগাইনি।
“আমরা সিটি করপোরেশন থেকে বিলবোর্ডের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিলবোর্ড লাগিয়েছি। এর জন্য তাদেরকে তিন দিনের ভাড়াও দেওয়া হয়েছে। এখন কার বিলবোর্ডের ওপর বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে, এটা আমাদের দেখার বিষয় নয়।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার তো চায় না আমরা সভা-সমাবেশ, মিছিল মিটিং করি। তারা তো সারাদেশেই আমাদের সমাবেশগুলোকে ঘিরে কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে বাধা দিয়ে আসছে। এটা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বভাব।
“তবে যত বাধাই আসুক আমরা গণসমাবেশ সফল করব। এর জন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।”
রংপুর সিটি করপোরেশনের লাইসেন্স বিভাগের প্রধান শামীম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে নাম না প্রকাশের শর্তে লাইসেন্স বিভাগের আরেক কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, নগরীর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, স্টিকার লাগানো রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগ অনুমতি ছাড়া লাগানো, এ কারণে এসব অবৈধ। এগুলোর জন্য কেউই ঠিক মতো অনুমতি নেয় না।
তিনি আরও জানান, বিলবোর্ডগুলো একটা প্রতিষ্ঠানকে সিটি করপোরেশন থেকে চুক্তি অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে, তাদের মাধ্যমে অনেকেই বিলবোর্ড ব্যবহার করছেন।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশ করছে। গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহ ও ২২ অক্টোবর খুলনায় সমাবেশ করেছে দলটি। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে গণসমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।