Published : 01 May 2023, 03:34 PM
বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচিত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ ঘটেছে৷
রোববার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে সংঘর্ষ চলে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন৷
এরপর সোমবার সেখানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ও দেশীয় ধারাল অস্ত্রসহ ১৩ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ৷

ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) চাইলাউ মারমা৷
গোয়েন্দাসহ দুই শতাধিক পুলিশ সদস্য অভিযানে অংশ নেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) আবির হোসেন৷
চাইলাউ মারমা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতরাতে চনপাড়ায় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে মাদক ব্যবসায়ীরা৷ খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়৷ সকালে চনপাড়ায় পুলিশ মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালায়৷
“অভিযানে চনপাড়ার বেশ কয়েকটি চিহ্নিত মাদক স্পট গুঁড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ৷ ১৩ জনকে মাদক ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে৷”
মাদক নির্মূলে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি৷

গত বছর বুয়েট ছাত্র ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় তোলপাড়ের মধ্যে চনপাড়ার নাম সামনে আসে। ওই এলাকায় মাদক বিক্রি আর এর ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসার পর পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার, ‘ক্রসফায়ারে মৃত্যু’ ইত্যাদি নানা ঘটনায় গণমাধ্যমে শিরোনাম হতে থাকে এলাকাটি।
চনপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রোববার রাতভর পর্যন্ত চনপাড়ার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা সমশের আলী ও মো. সাহাবুদ্দিনের লোকজনের সঙ্গে অপর মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীনের লোকজনের দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে৷
সন্ধ্যায় জয়নালের এক অনুসারীকে মারধর করে সমশেরের এক অনুসারী৷ এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত৷ এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিও হয়৷
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষ চলাকালে দুই পক্ষই তাদের প্রতিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়৷
গত ১১ এপ্রিলও শমসের আলী ও শাহাউদ্দিনের অনুসারীদের সঙ্গে জয়নাল আবেদীনের সমর্থকদের মধ্যে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ হয়৷ সে সময় জয়নালের তিন সহযোগী গুলিবিদ্ধ হন৷
চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাদক বিক্রির নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ছিল স্থানীয় ইউপি সদস্য বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে৷ তিনি রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি `বজলু মেম্বার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ফারদিনের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় আসেন বজলুর রহমান। ওই বছরের ১৮ নভেম্বর চনপাড়ার পূর্বগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তারের পর অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকা রাখার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করে র্যাব। তবে আগে থেকেই হত্যা, মাদকসহ অন্তত ২৩টি মামলার আসামি ছিলেন তিনি।
গত ৩১ মার্চ কারা তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বজলুর। এরপর চনপাড়ার মাদক বিক্রি নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি পক্ষ সক্রিয়৷ হয়ে উঠেছে। তারা প্রায় সময়ই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।