কুমিল্লায় হামলায় রক্তাক্ত বিএনপি নেতা বুলু

হামলাকারীদের রডের আঘাতে বুলুর মাথা ফেটে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে পড়ে।

কুমিল্লা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 04:11 PM
Updated : 17 Sept 2022, 04:11 PM

নোয়াখালী থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু।

মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাফর ইকবাল জানান, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের বিপুলাসার বাজারে এই হামলা হয়।

হামলাকারীদের রডের আঘাতে বুলুর মাথা ফেটে পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে পড়ে।

হামলায় মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন, বুলুর স্ত্রী শামীমা বরকত লাকি, বেগমগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মহিউদ্দিন রাজুসহ আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

বুলু ছাড়া অন্য আহতদের মধ্যে শরীফ হোসেনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে দলীয় নেতাকর্মীরা।

বরকত উল্লাহ বুলু ও তার স্ত্রী শামীমা বরকত লাকি শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা যাওয়ার পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন কুমিল্লা সদরের আলেখারচর এলাকায় একটি হোটেলে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দেন।  

এ সময় বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াসহ কুমিল্লা মহানগর ও জেলা বিএনপি এবং দলেল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন। ওই এলাকাটি নোয়াখালীর সীমানার কাছে। এজন্য তাকে এগিয়ে দিতে সোনাইমুড়ি ও বেগমগঞ্জেরর যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ৭/৮টি মোটরসাইকেল সঙ্গে ছিল।

“বিপুলাসার বাজারের একটু আগে গাড়ির চাকার হাওয়া কমে গেলে চালক আমাদের বাজারের একটি দোকানের সামনে নামিয়ে চাকায় হাওয়া ভরতে যায়।”

বুলু বলেন, পাশে বাড়ি হওয়ায় মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক শরীফ হোসেন তাকে দেখে সেখানে আসেন। এছাড়া স্থানীয় এলাকার লোকজন তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন।

“আমরা সবাই চা-নাস্তা খাচ্ছিলাম। এমন সময়ে হঠাৎ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একদল ক্যাডার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর অতর্তিক হামলা চালায়। তারা আমাদের রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করে।  আমার স্ত্রীর উপরও হামলা চালিয়েছে। আমার মাথায় রড দিয়ে তিনটি আঘাত করেছে। ওই সন্ত্রাসীরা আমাদেরকে হত্যার জন্যই হামলা করেছে। 

বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি বিপুলসার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে এমন হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ মিছিল করেছি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত দলের নীতিনির্ধারকরা নেবেন।” 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিপুলসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ইকবাল মাহমুদ বলেন, “আমি ঘটনার সময় এলাকায় ছিলাম না। গত তিনদিন ধরে আমি ঢাকা। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাফর ইকবাল বলেন, বরকত উল্লাহ বুলু জানিয়েছেন হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন লোক এসে তাদের ওপর হামলা করেছে। তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ঢাকার দিকে চলে যান।

এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি; অভিযোগ পেলে কারা এই হামলা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হবে, বলেন জাফর ইকবাল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক