কুয়েটে সহকারী রেজিস্ট্রারকে কক্ষে রেখে নারী সহকর্মীর তালা

কুয়েট কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত; আমরা প্রত্যেকেই বিব্রত।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Sept 2022, 06:20 PM
Updated : 18 Sept 2022, 06:20 PM

কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক সহকারী রেজিস্ট্রারকে কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। 

রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার সহকারী পরিচালক মনোজ কুমার মজুমদার জানান।

উপাচার্য দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রী দোলনের কক্ষে তালা দেন তারই সহকর্মী রেজিস্ট্রার শাখার সেকশন অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস দোলা। 

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে তালা খুলে দেওয়া হয়। 

মনোজ কুমার বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত; আমরা প্রত্যেকেই বিব্রত। যেহেতু প্রশাসনিক বিষয়, প্রশাসনিকভাবেই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।” 

কুয়েটের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দোলন ও দোলা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা। দোলন দৌলতপুর সরকারি ব্রজলাল কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। জাতীয় বেতন স্কেলের সপ্তম গ্রেডের এ কর্মকর্তা সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ আলমগীরের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। 

পরে উপাচার্য কাজী সাজ্জাদ হোসেনের সময়ে গ্রন্থাগার শাখায় দায়িত্ব পান। সম্প্রতি উপাচার্য মিহির রঞ্জন হালদার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আবার উপাচার্য দপ্তরের সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কাজ করছেন। 

অন্যদিকে, রেজিস্ট্রারের দপ্তরের সেকশন অফিসার দোলা জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেডের কর্মকর্তা। তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাগনি।

এ বিষয়ে নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রী দোলন বলেন, “প্রতিদিনের মতো ৯টার দিকে আমার কক্ষে আসি। সোয়া ৯টার দিকে সহকর্মী দোলা আমাকে রুম থেকে বের হতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ রুমে বসলে আমি বসব, না হলে কেউ বসবে না।’” 

দোলন আরও বলেন, “আমি তাকে জানিয়েছি, উপাচার্য মহোদয় আমাকে এখানে বসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন; কর্তৃপক্ষ বললে বের হয়ে যাব।” 

“এক পর্যায়ে তিনি ওই কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। আমি ফোনে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে ১১টার দিকে উপাচার্যের নির্দেশে রেজিস্ট্রার মহোদয় দরজা খোলানোর ব্যবস্থা করেন।” 

কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আগে গ্রন্থাগারের দায়িত্বে ছিলেন। আগের উপাচার্য তাকে বদলি করেছিলেন। নতুন উপাচার্য আসার পর তিনি নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন। 

এ বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দোলা বলেন, “সাবেক উপাচার্য যাদের পছন্দ করতেন, তাদের কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেই তালিকায় আমিও পড়েছি।” 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য উপাচার্য অধ্যাপক মিহির রঞ্জন হালদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক