Published : 27 Apr 2023, 08:00 PM
গত বছর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
বৃহস্পতিবার শেরপুরের এক অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগের কর্মকর্তা, আইনজীবী ও আইনজীবী সহকারী–সবাই প্রচণ্ড পরিশ্রম করেন।
সবাই বিচার বিভাগকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জেনে খুশি হবেন গত ২০২২ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ডেথ রেফারেন্স ডিসপোজাল হয়েছে, যার সংখ্যা ১৫৫, যা গত ৫০ বছরেও হয়নি।
“গত বছর সাবর্ডিনেট জুডিসিয়ারিতে ৮ লাখের বেশি কেইস ডিসপোজাল হয়েছে এবং কেইস ফাইলিংয়ের সংখ্যা ছিল ৭ লাখ; অর্থাৎ যে পরিমাণ কেইস দাখিল হয়েছে তার চেয়ে ডিসপোজাল হয়েছে বেশি।”
বৃহস্পতিবার সকালে শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে বিচারপ্রার্থীদের জন্য নির্মিতব্য বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে প্রধান বিচারপতি বক্তব্য দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “নানা বাধা সত্বেও আমাদের রাষ্ট্র আমাদের দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। আজ থেকে ৫০/৬০ বছর আগে যাদের বয়স ৭০ এর কোঠায় তারা জানেন এ দেশের ও এ অঞ্চলের অবস্থা কী ছিল। সেখান থেকে চেঞ্জ হয়ে এখন কী অবস্থায় এসেছে।”
আমরা দ্রুত সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য একটাই, তা হলো দেশকে আরও গতিশীলতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং রাষ্ট্রের আর্থিক সঙ্গতি বৃদ্ধি করা। সেই সঙ্গে আমাদের যেটা স্প্যাসিফিক দায়িত্ব, তা হলো জুডিসিয়ারিকে গতিশীল রাষ্ট্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে একটা গতিশীল জুডিসিয়ারি তৈরি করা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।”
শেরপুরে গত বছর ম্যাজিস্ট্রেসিতে ১৪২ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ১০০টা যদি ফাইল হয়ে থাকে পুরনো কেইস দিয়ে ১৪২টি ডিসপোজাল হয়েছে। শেরপুর জজশিপে–বিশেষ করে সিভিল কেইসগুলো–গত বছর ডিসপোজাল হয়েছিল ১০১ পার্সেন্ট এবং এ বছরের প্রথম তিন মাসে এখানে গড়ে ডিসপোজাল ১০৬ পার্সেন্ট হয়েছে।”
অন্যান্য স্থানের তুলনায় শেরপুরে মামলার জট অনেক কম এবং তা সহনশীল পর্যায়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “শেরপুরে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে সারা দেশে এমন করতে পারলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ইনশাল্লাহ মামলার জটকে আমরা সহনশীল পর্যায়ে আনতে পারব।”
এ সময় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার মুন্সি মোহাম্মদ মশিউর রহমান, শেরপুরের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ তৌফিক আজিজ, জেলা মুখ্য বিচারিক হাকিম এসএম হুমায়ুন কবিরসহ জেলা জজশিপ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির অন্যান্য বিচারক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ আগে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জেলা জজশিপ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির বিচারকদের নিয়ে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সভাকক্ষে সভা করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতিকে স্ক্রেস্ট উপহার প্রদান করা হয়।
পরে তিনি জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপন করেন। ন্যায়কুঞ্জ উদ্বোধন শেষে জেলা আইনজীবী সমিতিতে বার লাইব্রেরির উদ্বোধন শেষে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন প্রধান বিচারপতি।