বরিশালে মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে পিটিয়ে ৬৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

মুলাদীর দড়িরচর লক্ষ্মীপুর কাঠের পোল ও কাজীরহাট বাজারে দুই দফা হামলা হয় বলে খাসেরহাট মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আলম জানান।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 July 2022, 06:09 PM
Updated : 25 July 2022, 06:09 PM

বরিশালের মুলাদীর এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ তার কাছ থেকে ৬৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

সোমবার সকালে উপজেলার দড়িরচর লক্ষ্মীপুর কাঠের পোল ও কাজীরহাট বাজার এলাকায় দুই দফা হামলা হয় বলে মুলাদীর খাসেরহাট মহিলা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুরুল আলম জানান।

নুরুল আলম মুলাদী ইউনিয়নের দড়িরচর লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন সিকদারের ছেলে।

নুরুল আলমের অভিযোগ, তার কাছ থেকে হামলাকারীরা ৬৪ লাখ ৪২৫ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে।

তবে মুলাদী থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক ইউপি সদস্য ও তার ভাইয়ের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে।

“টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তদন্ত না করে নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থলে সিসি ক্যামেরা ছিল। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বলতে পারব।”

নুরুল আলম মুলাদীর প্যাদার হাট ও খাসেরহাট বাজারের ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট। এ ছাড়া তিনি মুলাদী উপজেলা হজ ক্যাম্পের মোয়াল্লেম।

নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, ব্যাংকের দুই এজেন্টের ও ৩৩ জন ওমরা হজ পালনে ইচ্ছুকদের দেওয়া ৬৪ লাখ ৪২৫ টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য তিনি অটোরিকশায় বাড়ি থেকে রওনা হন।

“দড়িরচর লক্ষ্মীপুর পৌঁছুলে মুলাদী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাখাওয়াত হোসেনসহ কয়েকজন হামলা করে। তারা টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে পেটানো শুরু করে।”

তখন জীবন রক্ষার্থে আরেকটি যানে উঠে তিনি কাজিরচর বাজারে আসেন; হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে তাকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয় বলে নুরুল আলমের অভিযোগ।

নুরুল আলম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইউপি সদস্য সাখাওয়াতসহ তার এক স্বজন তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত ছিলেন। এ ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই এবং হামলা করা হয়।

মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আহত ইমাম তাকে ফোন করে জানিয়েছেন। তিনি একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে আদালতে থাকায় হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মুলাদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুল আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মারামারি হয়েছে শুনেছি; কিন্তু টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা জানি না।”

ইউপি সদস্য শাখাওয়াত হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার সাথে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সালিস মীমাংশার দিনক্ষণ ঠিক করলেও তিনি আসেন না। আজ তার কাছে কারণ জানতে চাইলে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়েছে।”

তবে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ইউপি সদস্য শাখাওয়াত হোসেন।

মুলাদী থানার ওসি এসএম মাকসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করা ও জড়িতদের আটকে অভিযান চলছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক