পাহাড়ি ঝিরিতে ‘বিষ ছিটানোর’ প্রতিবাদে মানববন্ধন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে

গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের রেংয়েন ম্রো পাড়ার কলাইয়া ঝিরির আগায় কীটনাশক ও বিষ ছিটানোর অভিযোগ ওঠে।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 12:58 PM
Updated : 14 Sept 2022, 12:58 PM

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে একটি পাহাড়ি ঝিরিতে ‘বিষ ছিটানোর’ প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্ট, সাস্ট-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সংহতি জানান।

আদীবাসী সংগঠনটির সদস্য প্রভাত চাকমার সঞ্চলনায় বক্তব্য দেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, শাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আল গালিব, আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংগঠনটির সদস্য রূপেল চাকমা, মাধুর্য চাকমা ও সাবেক শিক্ষার্থী সজল কুণ্ডু।

গত ৬ সেপ্টেম্বর বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রেংয়েন ম্রো পাড়ার কলাইয়া ঝিরির আগায় কীটনাশক ও বিষ ছিটানোর অভিযোগ ওঠে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী পড়ে পানির সংকটে। তাদের ৪০০ একর জুমভূমি ও প্রাকৃতিক বন দখল করার উদ্দেশ্যে ঝিরির পানিতে কীটনাশক ও বিষ ঢেলে দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শাবির ওই মানববন্ধনে রুপেল চাকমা বলেন, “আদিবাসীদের বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং লুটপাট করে তাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসগুলোও নিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

“এছাড়া আদিবাসী ভূমি রক্ষাকারীদের ওপর মামলা দেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ে ধর্ষণের ঘটনাও ঘটছে। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো জোরালো পদক্ষেপ দেখছি না।”

তিনি বলেন, “সর্বশেষ আদিবাসীদের একমাত্র স্বচ্ছ পানির উৎস ঝিরিতে মাছ ধরার নাম করে বিষ মিশিয়ে দিয়েছে। এসব ঘটনার কারণ হলো ভূমি দখলদাররা চায় পাহাড়ের আদিবাসী সম্প্রদায়গুলোকে বিতাড়িত করে সেখানে পর্যটনস্থল বানাতে।”

পাহাড়ের গহীন বনে আদীবাসী সম্প্রদায়গুলোকে প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয় জানিয়ে মাধুর্য চাকমা বলেন, “এর মধ্যে ঝর্ণা, নালা ও ঝিরিগুলো খাবার পানির অন্যতম উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন তারা।”

“সেখানে বসবাসরত সম্প্রদায়গুলোকে বিতাড়িত করার উদ্দেশে পানির এ উৎসে বিষ ছিটিয়ে দিয়েছে। এতে অনেকগুলো পরিবার পানি সংকেট দিন পার করছে।”

ওই প্রতিষ্ঠানটি নানাভাবে পাহাড়ে বসবাসরতদের ওপর নির্যাতন করে আসছে এবং কৌশল করে আদিবাসীদের বিতাড়িত করার উপায় খুঁজছে বলে অভিযোগ করেন মাধুর্য।

মানববন্ধনে তানভীর রহমান বলেন, “পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে আদিবাসীরা নানাদিক থেকে অবহেলিত। তাদের ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নাই; নেই স্কুলের সুবিধা। যোগাযোগের জন্য নেই কোনো সহজ ব্যবস্থা। এসব ছাড়াও এখন দেখা যাচ্ছে মুনাফালোভী একটি চক্র তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, তাদের খাবার পানিতে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে। এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।”

এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির আওতায় এনে এবং ওই স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান শাবি শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া টাঙ্গাইলের মধুপুরে আদিবাসীদের আবাদি জমি দখল করে লেক খননের পরিকল্পনা করার কথা তুলে ধরে সেই ঘটনারও প্রতিবাদ জানান মানববন্ধনকারীরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক