কিবরিয়া হত্যা মামলা: এবারও সাক্ষী অনুপস্থিত

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, কয়েকজন সাক্ষী মারা গেছেন; উপস্থিত না হওয়া আরও কয়েকজনের নামে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

সিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2023, 04:54 PM
Updated : 15 Jan 2023, 04:54 PM

সাক্ষী উপস্থিত না থাকায় এবারও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলা ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। 

সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল জানান, রোববার সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. শাহাদাত হোসেন প্রামাণিকের আদালতে এই দুই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের ধার্য তারিখ ছিল। সাক্ষীরা উপস্থিত না থাকায় সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। 

একই কারণে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর এ দুই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়নি বলে জানান পিপি সরওয়ার। দুটি মামলা একই আদালতে বিচারাধীন আছে। 

কিবরিয়া হত্যা মামলায় ১৭১ জনের মধ্যে ৪৭ জন এবং ওই ঘটনায় বিস্ফোরক মামলায় ১৯৮ জনের মধ্যে ১১ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

আর সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলার ১২৩ জনের মধ্যে ৩ জন এবং ওই ঘটনায় বিস্ফোরক মামলার ১২৩ জনের মধ্যে ৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। 

পিপি সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সাক্ষীদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন। উপস্থিত না হওয়া কয়েকজন সাক্ষীর নামে সমন ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। 

তিনি জানান, রোববার আসামিদের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছসহ কয়েকজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জামিনে থাকা পাঁচজন আদালতে উপস্থিত হতে না পেরে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। 

২০০৫ সালর ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভা শেষে ফেরার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচ জন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলা তিন দফায় তদন্ত করে সিআইডি। 

২০০৫ সালের ১৮ মার্চ প্রথম দফায় শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন বাদী মজিদ খান। 

২০০৭ সালে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য আবার সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই দফায় ২০১১ সালের ২০ জুন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ ২৪ জনকে আসামি করে অধিকতর তদন্তের অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

এই অভিযোগপত্রের ওপর ওই বছরের ২৮ জুন শাহ এএমএস কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া নারাজি আবেদন করেন। 

সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর সিআইডি সিলেট রেঞ্জের জ্যেষ্ঠ এএসপি মেহেরুন নেছা পারুল সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। 

মামলায় পলাতক রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, মোহাম্মদ আলী, বদরুল ওরফে মো. বদরুল, মাওলানা তাজ উদ্দিন ও মো. মুহিবুর রহমান। 

আসামিদের মধ্যে কারাগারে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মিজানুর রহমান মিটু, হাফেজ সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ প্রকাশ নিমু, বদরুল আলম মিজান, মাওলানা শেখ ফরিদ আহমদ, আব্দুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, মুহিবুল্লাহ ওরফে মুজিবুর রহমান প্রকাশ অভি ও মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম। 

এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জিকে গৌছসহ ১২ জন জামিনে রয়েছেন। 

এদিকে, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বোমা হামলা হয়। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তখন বোমা হামলায় এক যুবলীগ কর্মী নিহত ও ২৯ জন আহত হন। ওই ঘটনায় এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে দিরাই থানায় মামলা দায়ের করেন। 

ওই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক