Published : 14 Apr 2023, 01:18 PM
মারামারি বা পরীক্ষায় অসদুপায়ে জড়িত থাকায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১৪ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে৷ জরিমানা এবং সতর্ক করা হয়েছে আরও ১১ জনকে।
বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল বাকীর সাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়।
এর আগে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় আব্দুল মালেক উকিল হলের সামনে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মারামারির জন্য চার জন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের জন্য ছয় জন, এ ছাড়া অন্যান্য মারামারির জন্য চার জনকে বহিষ্কারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তিন জনকে এক বছরের জন্য এবং একজনকে এক বছর ছয় মাস বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।
বহিষ্কার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- বিবিএ বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী আরাফাতুল ইসলাম মুবিন, ফার্মেসী বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী রূপক পাল, এপ্লাইড ম্যাথ বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী শাহ নেওয়াজ, ফার্মেসি বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী আল আমিন ব্যাপারি।
সংঘর্ষের ঘটনায় আরও ১০ জনকে দশ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং একজনকে সতর্কীকরণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী তৌফিক আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নাঈম মোস্তফাকে এক বছর এবং বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী তামিম ইবনে মাহবুব ও মেহেদী হাসান অর্পনকে ছয় মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাসনালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংগঠিত মারামারি এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী মৃন্ময় কৃষ্ণ সাহা সৌরভকে এক বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
শৃঙ্খলা বোর্ডের সভায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করায় বিভিন্ন বিভাগের মোট ছয় জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদেরকে উক্ত সেমিস্টারের সকল পরীক্ষা বাতিলসহ ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন বলেন, “প্রতিটি ঘটনা যাচাই-বাছাই করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আসতে হবে। সকল শিক্ষার্থীর সুন্দর শিক্ষা জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।”