বৈরী আবহাওয়ায় নষ্ট হচ্ছে আগাম সবজির বীজ, বিপাকে কৃষক

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, এবার জেলায় ৯০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষের টার্গেট নিয়েছেন কৃষকরা।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Sept 2022, 10:21 AM
Updated : 17 Sept 2022, 10:21 AM

বাজারে চাহিদা থাকায় কয়েক বছর ধরে কুড়িগ্রামের কৃষকরা আগামভাবে শীতের সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে এসব সবজির বীজ মাঠেই মরে যাচ্ছে।

তার উপর সার, বীজ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় ‘অতিরিক্ত’ টাকা গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে আগামভাবে চাষ করে এবার বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন জানান, গত বছর প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে আগামভাবে চাষ করা হয়েছিলো। এবার কৃষকরা ৯০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি ও বাঁধা কপি চাষের টার্গেট নিয়েছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত বীজ নিয়ে ‘পুলি’ তৈরির কাজ করা হয়।

তিনি বলেন, প্রথমে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে বীজ বপন করা হয়। সেখানে ১৫ দিন বয়সী পুলি তুলে বেডের মধ্যে লাগানো হয়। বেডে সর্বোচ্চ ৩০ থেকে ৪০ দিন রাখা হয়। এরপর জমি তৈরি করে সেখানে পুলি লাগানো হয়।

“সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে ফুলকপি বা বাঁধাকপি উত্তোলন করা শুরু হয়। এতে সবমিলিয়ে ১১০ থেকে ১২০ দিনের মাথায় চাষিরা সবজি বিক্রি করার সুযোগ পান।”

রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এবং সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ীতে আগামভাবে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ হচ্ছে। বাজারে শীতের এই সবজির চাহিদা থাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার কৃষকরা আগামভাবে এসব সবজি চাষ করছেন বলে জানালেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

“কিন্তু চলতি বছর অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত আর কড়া রোদের কারণে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার উপর সার ও কীটনাশকের মূল্য বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত টাকা গুণতে হচ্ছে কৃষকদের। ফলে আগামভাবে চাষ করে এবার বিপাকে রয়েছে চাষিরা।” যোগ করেন জয়নাল।

ছিনাই ইউনিয়নের বালার ডিঘিরপাড় খিলপাড় এলাকার ৬৩ বছর বয়সী কৃষক আব্দুল গফুর জানান, দিন দিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে প্রান্তিক চাষিরা বেশি সমস্যায় পড়েছেন। যারা জমি লিজ নিয়ে বা বর্গা নিয়ে আগাম সবজি চাষ শুরু করেছেন, তারা এখন অতিরিক্ত খরচের চাপে দিশেহারা।

একই উপজেলার মীরেরবাড়ী এলাকার কৃষক কোরবান আলী বলেন, “গরমকালে দুটো পয়সা বেশি পাওয়ার আশায় ফুলকপি চাষ করি। কিন্তু এবার খরচ বেড়েছে। ৭৫ শতক জমিতে এবার এক লাখ টাকা খরচ হবে। আবহাওয়া ভাল থাকলে শতভাগ লাভ হবে, নাহলে লোকসান গুণতে হবে।

“গতবার ইউরিয়া ও পটাশ সারের কেজি ছিল ১৮ টাকা করে। এবার কিনতে হলো ৩০টাকা করে। এছাড়া বীজ ও কীটনাশকের দামও বেড়ে গেছে।”

একই এলাকার কৃষক আশরাফ আলী বলেন, “প্রচণ্ড গরমে পুলিগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। পলিথিন ও কাঁথা দিয়ে ঢেকেও রক্ষা করা যাচ্ছে না। এদিকে আবার টানা বৃষ্টিও হচ্ছে। আবহাওয়ার এই তারতম্যের কারণে বীজতলা রক্ষা করা এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার কৃষকরা খুব একটা লাভবান হতে পারবে না।”

এদিকে সরকারিভাবে সারের কোনো সঙ্কট নেই বলা হলেও রাজারহাট ও সদর উপজেলার কৃষকরা বলছেন, তারা চাহিদা মতো সার পাচ্ছেন না। পেলেও দ্বিগুণ মূল্যে কিনতে হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. আজিজুল ইসলাম জানান, দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আগামভাবে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ। তবে সম্প্রতি খরা ও বৃষ্টির কারণে চারার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা নতুনভাবে আবারো চারা রোপণ করছে। আর সবজির মান বৃদ্ধির জন্য আমরা কৃষকদের জৈব সার ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।”

সার সংঙ্কটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে রাসায়নিক সার যথেষ্ট পরিমাণে মজুদ রয়েছে; কোনো সঙ্কট নেই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক