গাছে মাথা ঠুকে ছাত্রীকে ফেলল পুকুরে, পরদিন লাশ উদ্ধার

বাইজিদ মেয়েটির চুলের মুঠি ধরে পাশের গাছে মাথা ঠুকলে অচেতন হয়ে পড়ে; পরে তাকে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান বাইজিদ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 07:51 PM
Updated : 19 Sept 2022, 07:51 PM

প্রেমের সম্পর্কে তিক্ততায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক গৃহশিক্ষক ছাত্রীকে ‘গাছে মাথা ঠুকিয়ে পুকুরে ফেলে’ হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার এই হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার এসআই হুমায়ুন কবির এই তথ্য জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় পুলিশ বাইজিদ সরকার (২৬) নামের ওই গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত ছাত্রী (১৬) এবার জেলা শহরের গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। তারা পরিবারসহ জেলা শহরে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতেন।

গত ২৮ অগাস্ট দুপুর দেড়টার দিকে পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়া বোডিং মাঠ পুকুর থেকে মেয়েটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে মেয়েটির বাবা হত্যা প্ররোচনার মামলা করেছিলেন। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার এসআই হুমায়ুন কবির জানান, বাইজিদ সরকার আদালতে দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বিচারিক হাকিম স্বাগত সৌম্য বাইজিদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এসআই হুমায়ুন কবির আরও জানান, বাইজিদ সরকার শহরে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহশিক্ষকতা করেন। এই ছাত্রীকেও তার বাসায় গিয়ে গত তিন বছর ধরে পড়াচ্ছিলেন। এরই মধ্যে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

“গত ২৭ অগাস্ট রাত ২টার দিকে তাদের মধ্যে ফোনে কথা হয়। এ মেয়েটি বাইজিদকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মধ্যরাতে মেয়েটি লুকিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে বোডিং মাঠ পুকুর পাড়ে যান এবং বাইজিদের সঙ্গে দেখা করেন।”

এসআই হুমায়ুন কবির বলেন, সেখানে তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বাইজিদ বিয়ে করবে না বললে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে বাইজিদ তার চুলের মুঠি ধরে মাথা দিয়ে পাশের গাছে আঘাত করেন।

“এতে মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পুকুরে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যান বাইজিদ। পরদিন দুপুরে বোডিং মাঠ পুকুর থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।”

এসআই হুমায়ুন কবির আরও জানান, এই ঘটনার পর মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে বাইজিদও খোঁজ করার অভিনয় করেন৷ তারপরও পরিবারের সন্দেহ ছিল বাইজিদের উপরই। মরদেহ উদ্ধারের পর বাইজিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।

তিনি জানান, এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বাইজিদকে আসামি করেছিলেন। এখন এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক